|
প্রতিষ্ঠার ৮৬ বছরেও মাঠ পায়নি যে বিদ্যালয়
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() প্রতিষ্ঠার ৮৬ বছরেও মাঠ পায়নি যে বিদ্যালয় সরেজমিনে দেখা গেছে, ৪২ শতক জমির স্কুলটিতে নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও ২০০৫-২০০৬ সালে নির্মিত পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এখনো অপসারণ করা হয়নি। এছাড়া মাঠের মাঝখানে কয়েকটি বড় গাছ ও পাশের পুকুর ভাঙনের কারণে খেলার জায়গা সংকুচিত হয়ে গেছে। গ্রামে বিকল্প খেলার মাঠ না থাকায় স্কুল ছুটির পর শিশু-কিশোররা সীমিত জায়গায় ঝুঁকি নিয়ে খেলাধুলা করছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিরা, রাইসা ও ইরা খানম বলেছে, আমাদের স্কুলে খেলার জায়গা নাই, আমরা ঠিক ভাবে খেলাধুলা করতে পারিনা, তাই বাড়ি গিয়া মোবাইলে গেম খেলি। সহকারী শিক্ষক সোহেল হাওলাদার বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ সালে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ইউনিয়ন পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বিশেষ করে মাঠের অভাবে ঠিকভাবে চর্চা না করার কারণে উপজেলা পর্যায়ে ভালো করতে পারেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক সৈয়দ আজাদ মাসুম বলেন, এই গ্রামে একটা খেলার মাঠ নেই। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যাবে কই? স্কুলের জায়গাতেই মাঠ করা সম্ভব। পুরান বিল্ডিংটা ভাঙলেই হয়। তা না হলে আমাদের বাচ্চাগুলাে সব মোবাইল দেখে নষ্ট হয়ে যাবে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক মহাসিন হোসেন তালুকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি নিয়মে মাঠ বাধ্যতামূলক। অথচ ৮৬ বছর ধরে তিনটি প্রজন্ম পার হয়ে গেল। ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষা অফিস, জনপ্রতিনিধি কেউ নিয়ম বাস্তবায়ন করলো না এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক শিরিন সুলতানা বলেন, শিক্ষার্থীরা সংকীর্ণ জায়গায় খেলতে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছে। ৪২ শতক জমিতে পরিকল্পিতভাবে পুরাতন ভবন ভেঙে, গাছ সরিয়ে ও পুকুর ভাঙন রোধ করলেই এখানে একটি আদর্শ মাঠ করা সম্ভব। এই মাঠ হলে শুধু স্কুলের ১৮০ জন নয়, গ্রামের শত শত শিশু-কিশোররা উপকৃত হবে। তাদের মোবাইল আসক্তিও কমবে। এছাড়াও স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা জরুরি। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন বলেন, আমি অতিসম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী মাঠ বাধ্যতামূলক। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ ও মাঠের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো। আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বনিক বলেন, সরকারি নিয়ম ভেঙে ৮৬ বছর ধরে একটি স্কুল মাঠ না পাওয়া দুঃখজনক। কারও একার নয়, এটা সম্মিলিত ব্যর্থতা। ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষা অফিস, প্রকৌশল বিভাগ ও জনপ্রতিনিধি সবাইকে নিয়ে জরুরি সভা করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ ও মাঠ উন্নয়নে দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
ভূরুঙ্গামারীতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে লুটপাট-অগ্নিসংযোগ, অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি
বাগমারায় ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ
বাঘাইছড়িতে দমকা হাওয়ায় গাছ পালা ভেঙ্গে জনদুর্ভোগ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক
কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে ভাই-বোনদের বিরোধ: ধান কাটতে বাধা, থানায় অভিযোগ
