|
২৮ লাখ কোটি টাকার ক্ষত ও নতুন বাজেটের চ্যালেঞ্জ
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ২৮ লাখ কোটি টাকার ক্ষত ও নতুন বাজেটের চ্যালেঞ্জ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেটে 'জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন' ঘটেছে। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক সংকট এবং অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের এই সময়ে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার এক সাহসী প্রয়াস চালিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, সুষম উন্নয়ন এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ার যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে ধান, চাল, গম, আলু, পিঁয়াজ, তেল, চিনিসহ ৬০টি মৌলিক পণ্যের উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাবটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিকল্পনা বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। তবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-সহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা এই বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার বাড়তি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় বেশ কঠিন। রাজস্ব ঘাটতি হলে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর চাপ বাড়বে, যা সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যেভাবে মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি করছেন, তা বজায় থাকলে এই চ্যালেঞ্জ জয় করা অসম্ভব নয়। মূলত তিনটি বিশেষ ক্ষেত্রে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করতে হবে। যেমন: ১. কর আদায়ে জনসচেতনতা ও মানসিকতার পরিবর্তন: আমাদের দেশে কর দেওয়ার ক্ষেত্রে সক্ষমতার চেয়ে মানসিকতার অভাব বড় বাধা। কর নেটওয়ার্ক বাড়াতে জনগণকে বোঝাতে হবে যে এই দেশ তাদের এবং তাদের করের টাকাই দেশের উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে। এই সচেতনতা তৈরিতে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে যদি এই জনসচেতনতা অভিযানের নেতৃত্ব দেন, তবে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে। ২. দুর্নীতি ও অপচয় রোধ: গবেষণা বলে, বাজেটের প্রায় ৩০ শতাংশ অর্থ দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে নষ্ট হয়। বর্তমান সংকটকালে এই অপচয়ের ছিদ্রগুলো বন্ধ করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী ইতিপূর্বেই নিজের কার্যালয়ের ব্যয় সংকোচন এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ মাঠপর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে পারলে করদাতারাও আশ্বস্ত হবেন। ৩. অর্থ পাচার রোধ ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা) অবৈধভাবে পাচার হয়েছে। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনেও এই ভীতিপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের দেড় বছরের মেয়াদে অর্থ উদ্ধারে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি, উল্টো তাদের অনেকের বিরুদ্ধে এখন অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। বিএনপি সরকারকে বিগত আমলের সব অর্থ পাচারের নিরপেক্ষ তদন্ত করে তা ফেরত আনার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। নতুন করে যেন অর্থ পাচার না হয়, সেদিকেও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পরিশেষে বলা যায়, আপাতদৃষ্টিতে এই বাজেট বাস্তবায়নকে যারা কঠিন মনে করছেন, তারা বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতাকে হয়তো খাটো করে দেখছেন। তারেক রহমানের প্রতি জনগণের যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তার ওপর ভর করে এই ত্রিমুখী কৌশল সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বাধ্য।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
ট্রাইব্যুনালে বেনজীরের বিরুদ্ধে ১০ মামলা, ফেরাতে এনসিবিতে চিঠি
২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি গাজীপুর: জেলা প্রশাসক
বাকৃবিতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত মধ্যবয়সী নারীর মৃত্যু
আমি কেন টাকা নিয়ে মন্ত্রীর পেছনে ঘুরব, বক্তব্যের প্রমাণ মন্ত্রীকেই দিতে হবে: আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক
