|
জি-৭ জোটে না থেকেও কেন বারবার ডাক পাচ্ছে ভারত?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ফ্রান্সে ২০২৬ সালের জি-৭ বৈশ্বিক সম্মেলনে ভারতের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত মূলত যে সকল কৌশলগত কারণে বিশ্বরাজনীতির এই প্রভাবশালী ফোরামে ভারত ক্রমশ অপরিহার্য হয়ে উঠছে, তা নিচে আলোচনা করা হলো: উন্নয়নশীল বিশ্বের বা গ্লোবাল সাউথ-এর মুখপাত্র দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী সংস্থাগুলো মূলত পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোর একক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে আসছে। ফলে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার মতো অঞ্চলের উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে উপেক্ষিতই থেকে যেত। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত নিজেকে সেই অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রধান মুখপত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার দূরত্ব ঘুচিয়ে পারস্পরিক সেতুবন্ধন তৈরিতে ভারত এখন বড় ভূমিকা রাখছে, যার ফলে যেকোনো বৈশ্বিক এজেন্ডা সফল করতে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে ভারতের সমর্থন জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশাল অর্থনৈতিক বাজার ও সম্ভাবনা ১৪০ কোটিরও অধিক জনসংখ্যার দেশ ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এবং বৃহত্তম ভোক্তা বাজার। দেশটির ডিজিটাল ইকোসিস্টেম, উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং) খাত এবং তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় জোয়ার বিশ্বনেতাদের প্রবলভাবে আকর্ষণ করছে। বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনকে নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো এখন ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার মনে করে। চীনের আধিপত্য রুখতে কৌশলগত ভারসাম্য ইন্দো-প্যাসিফিক বা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব পশ্চিমা বিশ্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়েছে। নিজস্ব ভৌগোলিক অবস্থান, শক্তিশালী সামরিক কাঠামো এবং বিশাল অর্থনীতির কারণে বেইজিংয়ের এই একচ্ছত্র প্রভাবকে কাউন্টার বা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রাখতে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর কাছে ভারতের চেয়ে উপযুক্ত ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী কৌশলগত মিত্র আর কেউ নেই। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর লড়াইয়ে ভারতকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব। অন্যতম জনবহুল এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হওয়ায় ভারতের জ্বালানি চাহিদার ধরন বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণের মাত্রায় বড় প্রভাব ফেলে। বর্তমান সময়ে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স-এর মতো দূরদর্শী উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত বিশ্বকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে নেতৃত্ব দিচ্ছে। স্বাধীন কূটনীতি ও গণতান্ত্রিক অবস্থান পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সব সময় তার নিজস্ব ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চলেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও দেশটি কোনো নির্দিষ্ট ব্লকের অন্ধ অনুসারী না হয়ে, সংলাপ ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির কারণে বিশ্বের যেকোনো বিবদমান পক্ষের সাথে মধ্যস্থতা করার এক অনন্য সক্ষমতা রয়েছে ভারতের, যা আজকের অস্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থায় অত্যন্ত সমাদৃত। প্রতীকী অতিথি থেকে কার্যকর অংশীদার জি-৭ সম্মেলনে ভারতের এই নিয়মিত উপস্থিতি এখন আর কেবল সৌজন্যমূলক বা প্রতীকী কোনো বিষয় নয়। বৈশ্বিক ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, টেকসই উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির আদান-প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক এজেন্ডাগুলোতে ভারত এখন কার্যকরী সমাধান ও নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আলোচনার টেবিলে অবদান রাখছে। বর্তমান ভূ-রাজনীতি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এখন আর শুধু পশ্চিমাদের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ভারতের মতো উদীয়মান পরাশক্তিগুলোর ওপরই আগামী দিনের বিশ্বরাজনীতির গতিপ্রকৃতি বহুলাংশে নির্ভর করছে। প্রসঙ্গত, ১৯৭৩ সালে প্যারিসে এক বৈঠকের মাধ্যমে জি-৭ জোটের প্রাথমিক ধারণার সূত্রপাত ঘটে এবং ১৯৭৫ সালে এর প্রথম আনুষ্ঠানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিল জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স ও জাপান। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭৬ সালে কানাডা এই জোটে যুক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালের সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) অংশ নেওয়া শুরু করে এবং তখন থেকে তাদের প্রতিনিধিরা নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও, ইইউ আলাদা কোনো স্বাধীন সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
অল্প বৃষ্টিতে পানিতে সয়লাব খড়িয়া কাজিচর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র
বনশ্রী সোসাইটি নির্বাচন: এগিয়ে বাতেন-দুলাল পরিষদ, যুগ্ম শিক্ষা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে রাশেদ আকন
রেজাউর রহমান ফাহিম বনানী থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত
বাঘাইছড়িতে বাঘাইহাট জোনের উদ্দ্যোগে বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান
