|
পর্দার দিন কি শেষ? প্রযুক্তি সংস্থাগুলো কেন আপনার স্ক্রিনের পেছনে লেগেছে
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() পর্দার দিন কি শেষ? প্রযুক্তি সংস্থাগুলো কেন আপনার স্ক্রিনের পেছনে লেগেছে স্ক্রিন হটাতে আসছে পরিধানযোগ্য এআই প্রযুক্তি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষস্থানীয় টেক জায়ান্টগুলো এমন কিছু ডিভাইস বা গ্যাজেট তৈরিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে, যা স্ক্রিন ছাড়াই ব্যবহারকারীকে প্রয়োজনীয় সব তথ্য সরবরাহ করতে পারবে: অ্যাপলের ক্যামেরাযুক্ত এয়ারপড: প্রযুক্তি বাজারে জোর গুঞ্জন, আগামী বছরই অ্যাপল বাজারে আনতে যাচ্ছে বিল্ট-ইন ক্যামেরাযুক্ত এয়ারপড। এই ক্যামেরাগুলো ছবি তোলার জন্য নয়, বরং ব্যবহারকারীর চারপাশের ভিজ্যুয়াল তথ্য প্রসেস করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি-কে পাঠাবে। ফলে কোনো স্ক্রিনের দিকে না তাকিয়েই ব্যবহারকারী তার ডিভাইসের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। স্ন্যাপ-এর স্বাধীন স্মার্ট চশমা: স্ন্যাপচ্যাটের মূল প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ সম্প্রতি স্পেকস নামক একটি এআই-চালিত স্মার্ট চশমা উন্মোচন করেছে। বাজারে থাকা অন্যান্য স্মার্ট গ্লাসের মতো এটি শুধু ফোনের পরিপূরক হিসেবে নয়, বরং ফোন ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীন ডিভাইস হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। ভয়েস ও জেসচার কন্ট্রোল: এআই প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে এখন টাইপ করার ঝামেলা এড়িয়ে কেবল কণ্ঠস্বর বা হাতের ইশারার মাধ্যমেই জটিল সব ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে উঠছে। ইতিবাচক দিক: প্রযুক্তির সাথে মানবিক সংযোগ প্রযুক্তি বিশ্লেষক বেন উড-এর মতে, এই স্ক্রিনহীন প্রযুক্তির কিছু বাস্তবমুখী ও ইতিবাচক দিক রয়েছে: কোনো গ্লাস বা স্ক্রিনে বুঁদ না থেকে শুধু চারপাশের পরিবেশের দিকে তাকিয়েই ভার্চুয়াল তথ্য বা নেভিগেশন (পথনির্দেশনা) দেখা সম্ভব। রান্নাঘরে ফ্রিজ খুলে ভেতরে কী কী উপাদান আছে তা এআই-কে দেখালেই, সে মুহূর্তের মধ্যে রেসিপি তৈরি করে কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে পারবে। এটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রযুক্তির অযাচিত হস্তক্ষেপ বা মাথা নিচু করে থাকার' প্রবণতা অনেকটাই কমিয়ে আনবে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নতুন আসক্তির উদ্বেগ সুবিধার পাশাপাশি এই নতুন প্রযুক্তি ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া। গোপনীয়তা হরণ ও সামাজিক অস্বস্তি: মেটা কিংবা স্ন্যাপ-এর স্মার্ট গ্লাসে থাকা ক্যামেরার কারণে জনসমক্ষে অপরিচিত মানুষের অজান্তে ভিডিও ধারণ বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। যদিও ডিভাইসগুলোতে ছোট ইন্ডিকেটর লাইট বা আলোর ব্যবস্থা রয়েছে, তবে তা সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি গবেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ডিভাইসগুলো স্ক্রিন টাইম কমানোর কথা বললেও তা মূলত মানুষের জীবনে প্রযুক্তির অনুপ্রবেশ আরও বাড়িয়ে দেবে। স্মার্টফোন হয়তো সমাজ থেকে পুরোপুরি বিদায় নেবে না, তবে মানুষ যখন স্ক্রিনের দিকে তাকাবে না (যেমন হাঁটার সময় বা আড্ডায়), তখনও এই পরিধানযোগ্য ডিভাইসের মাধ্যমে সে অবচেতনভাবেই প্রযুক্তির জালে জড়িয়ে থাকবে। প্রযুক্তির এই স্ক্রিনহীননতুন রূপ মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করবে নাকি ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে পুরোপুরি হুমকির মুখে ফেলবে, তা কেবল সময়ই বলে দেবে। সূত্র: বিবিসি ওয়ার্ল্ড
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
