|
ভারতীয় ভিসা চালু হওয়ায় স্বস্তি, টাইম-স্লটের ভোগান্তি কমার আশা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ভারতীয় ভিসা চালু হওয়ায় স্বস্তি, টাইম-স্লটের ভোগান্তি কমার আশা প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম চালু হওয়ায় এবার ভারতে বেড়াতে যেতে চান নিলয়। অনলাইনে আবেদন করে আবেদনপত্র জমার সময়ও পেয়ে গেছেন সহজে। বুধবার যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) আবেদন জমা দিয়ে ফেরার পর কথা হয় নিলয়ের সঙ্গে। উত্তরায় জাপানি ভাষা শিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠানে পড়েন তিনি। নিলয় গণমাধ্যমকে বলেন, আমি নিজেই আবেদন করেছি, খুব সহজে ভিসার আবেদন জমার সময় পেয়েছি। ফিঙ্গার প্রিন্ট আগে দেওয়া থাকায় সময়ও কম লেগেছে। ৩০-৩৫ মিনিটের মধ্যে কাজ শেষ গেছে। ভিসা কার্যক্রম সীমিত থাকায় আগেরবার মেডিকেল ভিসা না পাওয়ায় আক্ষেপ থাকলেও এবার ট্যুরিস্ট ভিসা পাবেন বলে আশাবাদী তিনি। নিলয় বলেন, আমরাতো চাই না ভিসা কখনও বন্ধ থাকুক। চিকিৎসা-ঘোরাঘুরিসহ কত কাজেইতো মানুষ ভারতে যায়। সে কারণে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকুক এটা আমরা চাই। প্রায় দুই বছর সীমিত থাকার পর ২৮ জুন থেকে স্বাভাবিক নিয়মে সব ধরনের ভিসার আবেদন জমা নিচ্ছে ভারতীয় হাই কমিশন। এতদিন ব্যাপক যাচাইবাছাইয়ের পর মেডিকেলসহ কিছু ভিসাই কেবল দেওয়া হত। ঢাকায় ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত ২৫ জুন ভিসা আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি জানান ২৮ জুন থেকে ফের টুরিস্ট ভিসার আবেদন নেওয়া শুরু হবে। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার মধ্যে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর দৈনিক ঘোষণার ভিত্তিতে ভিসা কার্যক্রম বন্ধই রাখা হয়। গণআন্দোলনের মুখে ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারত সরকার। ওই মাসের মাঝামাঝি সময়ে সীমিত পরিসরে আবার ভিসা আবেদনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়। এরপর ১৬ অগাস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়াল বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কেবল সীমিত পরিসরে জরুরি ও মেডিকেল ভিসা দেবে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন। তাতে ভারতীয় ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিরা ভোগান্তিতে পড়েন। ব্যবসার কাজেও অনেকে যেতে পারছিলেন না। মেডিকেল ভিসা সীমিত পরিসরে চালু থাকলেও আবেদন জমা দেওয়ার অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিলছিল না। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সেই অচলাবস্থা আর কাটেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। মে মাসের মাঝামাঝি খবর আসে, ভারত শিগগিরই বাংলাদেশিদের জন্য আবার পর্যটন ভিসা চালু করতে যাচ্ছে। তারও দেড় মাস পর সুখবর দেন নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আবেদনকারীরা জানিয়েছেন, সীমিত সেবার সময়ে অনলাইনে মেডিকেল ভিসার আবেদন করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসসহ হাই কমিশনে জমা দিতে হত। হাই কমিশন সেগুলো যাচাইবাছাই করে ভিসা আবেদন জমার সময় দিত। এরপর আবেদন গ্রহণ করা হলেও ভিসা দেওয়া হত কম। বুধবার সকালে যমুনা ফিউচার পার্কে বিশ্বে ভারতের সবচেয়ে বড় ভিসা আবেদনকেন্দ্রে ঘুরে ভিসা কার্যক্রম শুরু হওয়া মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। সকাল ৯টায় কার্যক্রম শুরু আগে ভিসা আবেদন কেন্দ্রের সামনে বড় ধরনের লাইন থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ছোট হয়ে আসে। তবে, কিছু সময় পরপর ছোটো ছোটো লাইন ছিল দুপুর পর্যন্ত। চারদিন আগে স্ত্রীর জন্য মেডিকেল ভিসার আবেদন জমা দিয়েছিলেন নীলফামারীর আরমান হোসেন। বুধবার ভিসা কেন্দ্রে এসে আবেদন ও কাগজপত্র জমার সময় পেয়েছেন তিনি। নিঃসন্তান আরমান স্ত্রীকে ভারতে ফার্টিলিটির চিকিৎসক দেখানোর ইচ্ছায় ভিসা আবেদন নিয়ে এসেছেন আইভ্যাকে। আরমান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথমবারের মত ভিসার আবেদন করলাম। কম সময়ের মধ্যেই টাইম-স্লট পেয়ে গেছি। এখন স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সহজে জমা দিতে পারব বলে মনে হচ্ছে। স্বামীর চিকিৎসার জন্য ভারত যেতে চূয়াডাঙ্গা থেকে ভিসার আবেদন নিয়ে এসেছেন গৃহিনী সামিরা। রোগী ও অ্যাটেনডেন্ট মিলে তারা ভিসার আবেদন করেছেন তিনটি। ভিসা আবেদন জমার সময় পেতে ট্রাভেল এজেন্টের দ্বারস্থ হলেও নিজেরা খুব সহজে ভিসা আবেদন জমা দিতে পারার কথা বলেন তিনি। সামিরা গণমাধ্যমকে বলেন, এর আগে আমি কোনো কাজ করিনি, এই ভিসার কাজ। খুব সহজে করতে পারছি, আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো লাগছে। তিনি বলেন, নিজেরা নিয়মকানুন না জানায় এজেন্টের মাধ্যমে ভিসা আবেদন করেছেন। এজেন্ট প্রতিটি ভিসায় দেড় হাজারের বিপরীতে নিয়েছে ৭ হাজার টাকা করে। আমরাতো অত জানি না। তারা বলেছে, তিনজনের জন্য ২১ হাজার টাকা লাগবে। আমরা সেভাবে দিয়েছি। পেশেন্টকেতো বাঁচাতে হবে। সাতক্ষীরাসহ সব ভিসা আবেদন কেন্দ্র দ্রুত সময়ে চালুর আহ্বান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা আশাশুনি থেকে আসা এক ভিসা আবেদনকারী। তিনি বলেন, রাত ১০টায় বাসে উঠে সকাল ৯টার দিকে ভিসা আবেদন কেন্দ্রে এসে পৌঁছেছেন। এরপর লাইন ধরেছেন। সব ঠিক থাকলে ভিসা আবেদন সম্পন্ন হবে। যদি সাতক্ষীরায় ভিসাটা হত, তাহলে আমাদের এত ভোগান্তিতে পড়তে হত না। আমরা সাতক্ষীরায় ভিসাটা পেলে এত সময় খরচ হত না এবং টাকাপয়সা কম খরচ হত। বুধবার সকালে মেডিকেল ভিসার আবেদন জমার পর আইভ্যাকের সামনে কথা হয় গৃহিণী তাপসী সাহার সঙ্গে। চিকিৎসা শেষে ভারতে বেড়ানোর ইচ্ছাও আছে তার। তিনি বলেন, আমি মেডিকেল ভিসার জন্য এসেছি। ডাক্তার দেখাব, ডাক্তার দেখানোর পর দেখব, কোথায় যাওয়া যায়। কোনো ধরনের অসুবিধা হয় নাই। সব ঠিকঠাক আছে। ভিসা কার্যক্রম যেন সবসময় স্বাভাবিক থাকে, সেই প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তাপসী বলেন, আগে ভিসা ফি কমই ছিল, এখন একটু বেশি। আমি চাই, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকুক, সবার যাতায়াত ঠিকঠাক চলুক। টাইম-স্লটটা সহজ করে দিক অনলাইনে ভিসা আবেদন করতে পারলেও আবেদন জমা দেওয়ার টাইম-স্লট না পাওয়ায় ভোগান্তির কথা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিলেন ভিসা প্রত্যাশীরা। ভিসা আবেদন জমার সময় পেতে মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ১ জুলাই থেকে টাইম-স্লট ব্যবস্থাপনা নতুন নিয়ম চালুর কথা বলেছে ভারতীয় হাই কমিশন। এখন থেকে অনলাইনে আবেদনের পর আইভ্যাকের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সময় বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগে নিজে নিজে টাইম-স্লট বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও অনেকক্ষেত্রে পাওয়া যেত না। টাইম-স্লট পেতে এজেন্ট বা দালাল ধরার কথা বলে আসছিলেন আবেদনকারীরা। ভিসা আবেদনকারীরা বলছেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন জমার সময় বরাদ্দ দিলে মানুষের ভোগান্তি কমতে পারে। আগে টাইম-স্লট পেতে গিয়ে অনেক সময় জটিলতা মোকাবেলা করতে হত। দিল্লিতে রোমানিয়া দূতাবাসে ভিসা আবেদন নিয়ে যাওয়ার জন্য ডাবল-এন্ট্রি ভিসার টাইম-স্লট পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন কেরানিগঞ্জ থেকে মো. তপন। দেড় মাস চেষ্টার পর সময় পাওয়ার কথা বলেছেন তিনি। নিজের ভোগান্তির বর্ণনা দিয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি নিজে ভুক্তভোগী। দিল্লিতে হইল গিয়া রোমানিয়ার অ্যাম্বাসি, যে ডেট পড়ছে, সেই ডেটইতো ফেইল হয়ে যাইতাছে গা। তিন মাস আগে ডেট দিছে, আমি আজকে দেড় মাস ধরে ঘুরতেছি জমা দিয়া। নতুন করে সব ধরনের ভিসা চালুর ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়ে টাইম-স্লটের ভোগান্তি কমানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন করে যে খুলছে, স্লটটা সহজ করে দিক। না হলেতো আপনি ভিসা ফি যে জমা দেবেন, সেই সুযোগইতো পাইবেন না। সার্ভার সমস্যাসহ নানা কিছু দেখাচ্ছে, সার্ভার সমস্যার কারণেতো আমরা ভোগান্তিতে। এত পরে যে একটা উদ্যোগ নিয়েছে, এটা আরও সহজ করে দেওয়া হোক। যাতে ভিসা ফিটা সহজে দিতে পারি, স্লটটা সহজ করে দিক। স্লটের নামে যে ভোগান্তি হচ্ছে, এই ভোগান্তি থেকে আমাদের রেহাই দিয়ে দিক। ২০২৪ সালের শুরুতে কাশ্মীর, দিল্লি, আগ্রা ও অমৃতসর ঘুরে আসা মোহাম্মদ প্রান্ত এবার সিমলা, মানালি, দিল্লি ও কলকাতায় বেড়াতে যেতে চান। ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় কল্যাণপুর থেকে ভিসা আবেদন নিয়ে এসেছেন তিনি। আইভ্যাকের বাইরে লাইনে দাঁড়ানো থাকাবস্থায় কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাাকার ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। কারণ, আমরা খুব কম খরচে আমাদের পাশের দেশ ভারতে ঘুরতে যেতে পারি। এজন্য আমরা খুশি। স্লট বরাদ্দের পদ্ধতি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রান্ত বলেন, স্লট সিস্টেমটা যদি বাদ দেওয়া যেত, তাহলে ভালো হত। স্লট সিস্টেমটার কারণে অনেকে অনেক বেশি টাকা দাবি করে। স্লট পাওয়া যায় না ঠিকভাবে। এটা যদি স্বাভাবিক হত, তাহলে আমাদের জন্য খুব ভালো হত। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের সহায়তা
১০ দিনে ৩ স্মার্টফোন বিস্ফোরণে এক জনের মৃত্যু: মৃত্যু মুখ থেকে ফিরলেন আরেক নারী (ভিডিও সহ)
গ্রাহকের অজান্তেই বিকাশ থেকে টাকা কেটে নিচ্ছে ফুডপান্ডা
সুন্দরবনের ভেসে আসা বনজ বীজ সংগ্রহ বন্ধে শ্যামনগরে লংমার্চ ফর ফরেস্ট ও স্মারকলিপি প্রদান
