|
বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মনিরুলের পরিবার ঘরে তালা দিয়ে গ্রাম ছাড়ল
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মনিরুলের পরিবার ঘরে তালা দিয়ে গ্রাম ছাড়ল হামলার ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে মনিরুলের বাড়িতে যান স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা–কর্মীরা। একপর্যায়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সম্পর্কে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর থেকে মনিরুলের বাড়িতে সকাল থেকে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের পরিবারের সঙ্গেও পুলিশ যোগাযোগ করেছে। যেহেতু ঘটনা দেশের বাইরে, তাই তাঁর বিরুদ্ধে ওই দেশের আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মনিরুলের বাড়িতে এখনো ঘটেনি। কেউ যেন তাঁদের বাড়িঘরে হামলা করতে না পারেন, সে ব্যাপারে পুলিশ সর্তক আছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি সব ধরনের সহযোগিতাও করছেন।’ ইতালিপ্রবাসী মনিরুল ইসলাম ধুরাইল ইউনিয়নের খালানিকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পরে তিনি দেশ ছাড়েন। আজ সকাল থেকে মনিরুলের বাড়িতে লোকজন ভিড় করতে থাকেন। মনিরুলের প্রতিবেশী চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল সকালই মনিরুলের বাড়িতে গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন আসতে শুরু করে। পরে ভয় পেয়ে বাড়ির লোকজন সবাই পালিয়েছে। কোথায় গেছে তা বলতে পারছি না।’ মনিরুলের বাড়ি দুটি ভাঙাচোরা টিনশেড ঘর। একটি চারচালা, অপরটি দোচালা। বাড়িতে তাঁর মা ও বড় ভাই থাকেন। মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, ‘দেড় বছর আগে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি জমান মনিরুল। এলাকায় থাকা অবস্থায় তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মনিরুল গ্রামের বাড়িতে এখনো বাড়িঘর করতে পারেননি। ঋণের বোঝা ওর মা ও ভাইয়ের মাথার ওপরে। টাকাপয়সা কামানো বাদ দিয়ে বিদেশে গিয়াও দল করা শুরু করেছে। আমি সৎভাই, এক পয়সাও আমাকে দেয় না। বিদেশে বসে এদেশের মান-সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে। ওর বিচার করুক, আমরা ওর সাথে নাই।’ জেলা ছাত্রশক্তি সদস্যসচিব আরিয়ান সায়েম বলেন, ‘সকালে ঢাকা থেকে জুলাইযোদ্ধা আয়ান মাদারীপুরে আসেন। পরে আমরা পুলিশ নিয়ে মনিরুলের গ্রামের বাড়িতে যাই। মনিরুলের বাড়িতে তালা দেওয়া। আমরা আসার আগেই তাঁরা ঘর ছেড়ে চলে যান। মনিরুলের বাড়িতে আধা ঘণ্টা ছিলাম। কেউ মব করার চেষ্টাও করেনি। আমরা আসার পরে কেউ কিছু করেছে কিনা জানি না।’ আরিয়ান সায়েম জানান, তাঁরা সেখানে যাওয়ার পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও এসেছিলেন। তিনি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মনিরুলের বিচারের দায়িত্ব নেন। এ সম্পর্কে ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘মনিরুল দেশে থাকতে ছাত্রলীগ করছে। এখনো বিদেশে বসে ছাত্রলীগ করে বলে জেনেছি। কিন্তু এভাবে ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি। সকালে কিছু লোক এসেছিলেন। তাঁরা মনিরুলের বিচার দাবি করে চলে গেছেন। আমি বাড়িতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করেছি। সদর থানা পুলিশও বিষয়টিতে নজর রেখেছে।’ ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন। সোমবার রাতে ভাই ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে তিনি স্থানীয় একটি পার্কে গেলে এ হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
