|
চার ঘটনায় সৃষ্ট আতঙ্ক দূর করার আহবান জানিয়ে
বীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নেটওয়ার্ক এর স্মারকলিপি পেশ
আজহারুল আজাদ জুয়েল, দিনাজপুর
|
![]() বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুনের কাছে স্বরলিপি হস্তান্তর করেন নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নেটওয়ার্ক, ব্লাস্ট দিনাজপুর কমিটি। স্মারকলিপিতে বীরগঞ্জ উপজেলায় আদিবাসী ও সনাতনীদের বিরুদ্ধে সৃষ্ট চারটি ঘটনার কথা তুলে ধরে বলা হয় যে, এই চারটি ঘটনায় বীরগঞ্জ উপজেলার আদিবাসী ও সনাতন হিন্দুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এবং থানা প্রশাসন যেন এই আতঙ্ক দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা চারটি ঘটনা হলো; ৬ নম্বর নিজপাড়া ইউনিয়নের প্রেম বাজারে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সুব্রত রায় নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা, ৩ নং শতগ্রাম ইউনিয়নের মুচিবাড়ি সরকারপাড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শান্তি মুর্মু, তপন রায়, জোসনা রায় সহ কয়েকটি আদিবাসী ও সনাতনী পরিবারকে মানসিক চাপের মধ্যে রাখা, শিবরামপুর ইউনিয়নের তিনটি সনাতনী হিন্দু পরিবারকে মারধরসহ অবরুদ্ধ করে রাখা, এতদ বিষয়ে খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিকের উপর মব সৃষ্টির চেষ্টা করা এবং বীরগঞ্জ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড ভুক্ত জগদল গ্রাম নিবাসী মৃত টেপরা হালদারের প্রায় পঞ্চাশ শতক জমি জনৈক মন্তাজ আলী টাইগার কর্তৃক বিক্রির যুক্তিতে জনৈক রাশেদ কর্তৃক জবর দখলের ঘটনা। জমির বর্তমান উত্তরাধিকারী তথা প্রকৃত মালিক চৌকিদার বাবু হালদারের মতে তার পিতা কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ছিলেন। কুষ্ঠ রোগে তার হাতের আঙ্গুল ও পা ছিল না। তিনি লেখাপড়া জানতেন না এবং কোন সহি স্বাক্ষর করতেও পারতেন না। অথচ জবর দখলকারীরা তার স্বাক্ষর যুক্ত দলিল দেখাচ্ছে যা সম্পূর্ণ জাল দলিল। এই দলিল দেখিয়ে জবরদস্তি ভাবে তাদের ৫০ শতক জায়গা দখল করা হয়েছে। এই জায়গায় তাদের পরিবারের অনেকের কবর ছিল। সেই কবর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য আদিবাসী পরিবার গুলোর মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখিত ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে আদিবাসী ও সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ভিটি সৃষ্টি হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। ফারুকলিপির বক্তব্য ছাড়াও মৌখিকভাবে ও সামগ্রিক ঘটনা তুলে ধরেন নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নেটওয়ার্ক দিনাজপুর এর আহ্বায়ক গোলাম নবী দুলাল ও ব্লাস্টের প্রজেক্ট অফিসার প্রতিমা রায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন সামগ্রিকভাবে মনোযোগ সহকারে ঘটনাবলী শোনেন এবং আশ্বাস দেন যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। স্মারকলিপি হস্তান্তরের সময় নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নেটওয়ার্কের সদস্য লুকাস সরেন, আজহারুল আজাদ জুয়েল, রতন সিং, অ্যাডভোকেট রুনা লায়লা, অ্যাডভোকেট ফারজানা ফারহিন ইতু, রিয়াজুল ইসলাম, উত্তম কুমার, তনুজা শারমিন, উত্তম শর্মা, ভুবন সেন, টিক্কা রাম রায়, জাহিদ হাসান, প্রদীপ চন্দ্র রায়, বিকাশ ঘোষ, জোসেফ হেমব্রম, আব্দুল জলিল সহ স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের আদিবাসী এবং সনাতন ধর্মীয় ও ডিবিসি নেটওয়ার্কের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
