|
ভান্ডারিয়ায় পৌনে ১ কোটি টাকা আত্মসাৎসহ ২৪ অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে শোকজ
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ভান্ডারিয়ায় পৌনে ১ কোটি টাকা আত্মসাৎসহ ২৪ অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে শোকজ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান স্বাক্ষরিত নোটিশটি গত ১৩ সেপ্টেম্বর জারি করা হয়। এতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মোট ২৪ টি অভিযোগ তুলে ধরে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে চান কি না, তাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়ের দুটি ব্যাংক হিসাব একক স্বাক্ষরে পরিচালনা, বিদ্যালয়ের তহবিলের সঠিক হিসাব না রাখা এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি ও অন্যান্য উৎস থেকে আদায়কৃত আনুমানিক ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার অভিযোগ। এছাড়া কমিটির অনুমোদন ছাড়া আয়-ব্যয় পরিচালনা এবং বিদ্যালয়ের আয় নগদ হিসেবে রেখে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক ব্যয়ের ক্ষেত্রে কমিটির অনুমোদন ও রেজুলেশন অনুসরণ করেননি। পাশাপাশি ব্যয় থেকে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করে গত আড়াই বছরে সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ভাউচারে রাজস্ব স্ট্যাম্প ব্যবহার না করা, নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্রীকে অনিয়ম করে আগে রোল নম্বর দেওয়া, উপবৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন আদায় এবং উপবৃত্তির বিপরীতে প্রাপ্ত টিউশন ফি শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ না করার অভিযোগও করা হয়েছে। নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫৪ টাকার ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২৯ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকার কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের লোনকে বিদ্যালয়ের আয় হিসেবে দেখিয়ে পরে স্কুল তহবিল থেকে তা পরিশোধের নামে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে PBGSI স্কিমের আওতায় পাওয়া প্রায় ৫ লাখ টাকা বিধিমোতাবেক ব্যয় না করে ২০২৬ এর জানুয়ারিতে ফেরত দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এর ফলে সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতি বছর ২০০ টাকা করে ল্যাব ফি নেওয়া হলেও বিদ্যালয়ের ল্যাব সচল না করায় শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক ক্লাস থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি সভাপতিকে বাদ দিয়ে এককভাবে সভা করে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রায় ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত, সহকারী প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার এবং বিদ্যালয়ের ক্যাশবই যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার অভিযোগ রয়েছে। এতে আরও অভিযোগ করা হয়, শিক্ষকদের বেতনের স্কুল অংশের টাকা কমিটির অনুমোদন ছাড়া ইচ্ছামতো বন্ধ করে দেওয়া, কমিটির সিদ্ধান্তের পরও অনুমোদন ছাড়া বাড়িভাড়া ভাতা গ্রহণ এবং এক সহকারী শিক্ষকের বিয়ে, বয়স, গায়ের রং ও পোশাক নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের তিনটি বেঞ্চ ও একটি টেবিল বিদ্যালয়ের সামনের একটি হোটেলের মালিকের কাছে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগও আনা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের সংশ্লিষ্ট প্রবিধানমালা-২০২৪ অনুযায়ী অদক্ষতা, পেশাগত অসদাচরণ, কর্তব্যে অবহেলা, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনজনিত শাস্তিযোগ্য অপরাধের পর্যায়ভুক্ত। একইসঙ্গে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ীও এসব কর্মকাণ্ড অসদাচরণের পর্যায়ভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের সভায় বিষয়টি আলোচনা করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দাখিল না করলে অথবা দাখিল করা জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
