ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 19 September, 2026, 1:12 PM

অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব

অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব

নিরাপত্তা ও সুরক্ষাবিষয়ক দেশীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক মেলবন্ধন ঘটাতে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো বাংলাদেশ এবং ইন্টারন্যাশনাল অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো বাংলাদেশ ২০২৬’।

প্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আই-স্টেশন লিমিটেড এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রদর্শনী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রদর্শনী চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) পর্যন্ত।  

আয়োজনের প্রথম দিন বিকাল ৩টায় আইসিসিবির নবরাত্রি হলে ‘বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা জোরদার: চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তি ও করণীয়’ শীর্ষক দ্বিতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেফটি অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল জাকির উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস-এর সম্মানিত ফ্যাকাল্টি সদস্য জনাব এ কে এম মাসুম উল আলম, সেফটি অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ খান, পিএসসি (অব.), সহ-সভাপতি স্থপতি জনাব মো. ইকবাল হাবিব, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি ও মেট্রোনেট বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব সৈয়দ আলমাস কবির, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার, পিএসসি এবং সেফটি ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি রেসপন্স স্পেশালিস্ট জনাব ফয়সাল আহমেদ।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের ফ্যাকাল্টি সদস্য জনাব এ কে এম মাসুম উল আলম কর্মক্ষেত্রে পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের পাশাপাশি কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা ও প্রকাশিত কাজেও অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ, সামাজিক কমপ্লায়েন্স ও শ্রম অধিকার-সংক্রান্ত বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

সেফটি অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ খান, পিএসসি (অব.) কর্মক্ষেত্র ও স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অগ্নিঝুঁকি প্রতিরোধ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে কর্মক্ষেত্র ও স্থাপনায় দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

নিরাপদ ভবন নির্মাণ, পরিকল্পিত নগরায়ণ, জননিরাপত্তা এবং অগ্নিঝুঁকি বিবেচনায় রেখে অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন সেফটি অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি স্থপতি মো. ইকবাল হাবিব বলেন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ভবন নির্মাণ ও নগরপরিকল্পনার প্রতিটি পর্যায়ে জননিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থাপত্য, নগর উন্নয়ন ও জনপরিসর-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি এ বিষয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বেসিসের সাবেক সভাপতি জনাব সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, প্রযুক্তি ও শিল্পখাতের অভিজ্ঞতার আলোকে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে।  

বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির প্রযুক্তি ও শিল্পখাতের অভিজ্ঞতার আলোকে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান, স্মার্ট মনিটরিং ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। প্রযুক্তি ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ ও দক্ষ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’

 অগ্নি প্রতিরোধ, অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম. এ. আজাদ আনোয়ার, পিএসসি। তিনি বলেন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, স্থপতি, প্রকৌশলী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, নিরাপদ উচ্ছেদ ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সেফটি ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি রেসপন্স স্পেশালিস্ট জনাব ফয়সাল আহমেদ বলেন, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি চিহ্নিত ও প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কর্মক্ষেত্রে পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য, অগ্নি প্রতিরোধ, ভবন নিরাপত্তা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুতিকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্বের ১০টি দেশের প্রায় ১৫০টি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের নিরাপত্তা কোম্পানি, ৫ শ’র বেশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ অংশ নিচ্ছেন।  

প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরা সর্বশেষ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সরাসরি দেখার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সেফটি খাতের পরিবর্তনশীল প্রবণতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও নিরাপদ, সুরক্ষিত ও ঝুঁকিমুক্ত কর্মপরিবেশ এবং জীবনযাপন নিশ্চিত করতে পারে, সে সম্পর্কেও বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাবেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status