চাঁদপুরে দুই সন্তান রেখে প্রবাসীর স্ত্রী উধাও, পরকীয়ার অভিযোগ
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের মদনা গ্রামে দুই সন্তান রেখে এক প্রবাসীর স্ত্রী ফাতেমা আক্তার পিংকি বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও গ্রামের সৌদি প্রবাসী শামিম মিয়ার সঙ্গে কথিত প্রেমের সম্পর্কের জেরে তিনি স্বামীর সংসার ছেড়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মদনা গ্রামের মো. আলমগীর হোসেন শেখ প্রায় তিন বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। এরপর থেকেই তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার পিংকি ওই ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে ফাতেমা বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় তিনি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা সঙ্গে নিয়ে যান বলে পরিবারের দাবি। পরে আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানিয়ে পরে চাঁদপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের দাবি, অভিযোগের পর পুলিশি সহায়তায় শামিম মিয়াসহ তাকে মিরপুর থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে তার বাবা-মায়ের জিম্মায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরকুমিরা এলাকায় বাবার বাড়িতে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
তবে গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ফাতেমা আক্তার পিংকি আবারও ওই ব্যক্তির কাছে চলে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। প্রবাসী স্বামী আলমগীর হোসেন একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে পরিবারের দাবি।
আলমগীর হোসেন ও ফাতেমা আক্তার পিংকির দাম্পত্য জীবনের প্রায় ১৩ বছর। তাদের দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় ছেলের বয়স ১০ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স ৬ বছর।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সংসারে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, আলমারি, বৈদ্যুতিক চুলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে। এছাড়া সংসার পরিচালনার জন্য প্রবাসী আলমগীর হোসেন নিয়মিত স্ত্রীর কাছে টাকা পাঠাতেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দুই সন্তান ও সংসার রেখে ফাতেমা আক্তার কেন বাড়ি থেকে চলে গেলেন—এ নিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। তবে তার বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এবং কথিত সম্পর্কের বিষয়ে ফাতেমা আক্তার পিংকির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগতভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।