ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ● ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
১১৪ বছরের পুরোনো স্কুল ও ধর্মপল্লী রক্ষায় : ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগ
ধনেশ পত্রনবীশ, দুর্গাপুর
প্রকাশ: Saturday, 26 September, 2026, 9:28 PM

১১৪ বছরের পুরোনো স্কুল ও ধর্মপল্লী রক্ষায় : ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগ

১১৪ বছরের পুরোনো স্কুল ও ধর্মপল্লী রক্ষায় : ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগ

প্রায় প্রতিবছরই সোমেশ্বরী নদীতে পাহাড়ি ঢল এলে আতঙ্কে থাকতে হয় শতবছরের পুরোনো খৃষ্টধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রানীখং ধর্মপল্লী, রানীখং প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রানীখং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। প্রবল স্রোত আর নদীভাঙনের আশঙ্কায় যখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল এই প্রতিষ্ঠান গুলো, ঠিক তখন জরুরি উদ্যোগ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

ওনার উদ্যোগ ও অর্থায়নে ভাঙনপ্রবণ স্থানে জিওব্যাগ ফেলে প্রতিষ্ঠান গুলোকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রানীখং উচ্চ বিদ্যালয়, রানীখং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাধু যোসেফ ধর্মপল্লী রক্ষা পাওয়ায় ডেপুটি স্পিকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ১নং কুল্লাগড়া ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অবস্থিত এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে প্লাবিত হয় পুরো এলাকা। প্রবল ভাবে শুরু হয় নদীর পার ভাঙ্গন। নদীর স্রোত ভয়ংকর রূপ ধারণ করলে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাড়ি-ঘর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখা দেয় চরম আতঙ্ক। পরবর্তিতে ঝুঁকির মুখে পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো। ভাঙন বাড়তে থাকায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দেয়।

ওই এলাকার শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কথা ভেবে স্থানীয়রা এ বিষয়টি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয়কে অবহিত করেন। পরে তিনি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে পাড় রক্ষার ব্যবস্থা করেন। ওনার এই মহৎ উদ্যোগ নেয়ার ফলে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে শতবছরের ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো।  

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনি মৃ বলেন, আমাদের স্কুলটি নদীর তীরে অবস্থিত। ভারত থেকে অতিরিক্ত পানি যখন এই নদীতে চলে আসে, তখন নদীর পানির স্রোত বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে স্কুলের সীমানা প্রাচীর পর্যন্ত চলে আসছিলো। এতে আমরা খুবই চিন্তিত ছিলাম। পরবর্তিতে মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্যার ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি পাড় ভাঙন রোধ করার জন্য আমাদের এখানে জিওব্যাগ দিয়ে বাঁধের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তবে আমাদের অনুরোধ, তিনি যেন এই বাঁধটি স্থায়ীভাবে আরও ভালোভাবে নির্মাণের ব্যবস্থা করেন।

রানীখং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর পলিনোস রিছিল বলেন, রানীখং উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্বপাশ দিয়েই সোমেশ্বরী নদী বহমান। বর্ষাকালে নদীটি উত্তাল রূপ ধারণ করে এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পাড় ভাঙ্গন অব্যাহত থাকে। এরই ফলে আমাদের ওয়ালগেটের পাশে একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। প্রতি বছর গর্তটি বড় হয়ে বিদ্যালয়ের ওয়ালগেট ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এরই মধ্যে মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয়ের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় এবং ওনার নিজ অর্থায়নে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগের মাধ্যমে পাড় ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে পাড় ভাঙন বন্ধ রয়েছে এবং আমরা উপকৃত হয়েছি। আগামী দিনে এই পাড় ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ করতে সিসি ব্লকের মাধ্যমে টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ডেপুটি স্পিকার মহোদয়কে অনুরোধ জানাচ্ছি। 

এ বিষয়ে ধর্মপল্লীর সিস্টার মিলিনিউটি বলেন, আমি রানীখং ধর্মপল্লী এলাকায় বসবাস করি। আমাদের এখানে স্কুলের পাশে বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। বর্ষা ও বন্যার সময় পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবল বেগে নেমে আসে। তখন নদীভাঙনও শুরু হয়। মিশনের আশপাশেও বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয় আমাদের জন্য বাঁধের ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য আমরা তাঁকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। 

অন্যদিকে রানীখং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুমা আরেং বলেন, সোমেশ্বরী একটি পাহাড়ি নদী। ভারতের পাহাড়ি এলাকা থেকে এই নদীতে পানি আসে। বর্ষাকালে নদীটি প্রবাহমান হওয়ার পাশাপাশি অনেক ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। বন্যার সময় পাহাড়ি ঢল নেমে এলে আমাদের এলাকায় যে ভাঙন হয়, তা অত্যন্ত মারাত্মক। ভাঙ্গনের বিষয়টি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয় জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকার করছি।

স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষগণ বলেন, সীমান্তবর্তী কুল্লাগড়া ইউনিয়নের এ অঞ্চলে পাহাড়ি ঢল ও নদীভাঙন দীর্ঘদিনের সমস্যা। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে এলে সোমেশ্বরী নদীর স্রোত বেড়ে যায়। এতে বিভিন্ন স্থানে নদীর তীর ভাঙতে থাকে। সময়ের সঙ্গে ভাঙন বাড়তে থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, বসতবাড়ি ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

জিওব্যাগ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে পাড় রক্ষার উদ্যোগ নেওয়ায় বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা অনেকটা কমেছে বলে জানান তারা। তবে, এটি তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। দীর্ঘমেয়াদী নদী ভাঙন বন্ধ করতে প্রয়োজন স্থায়ী ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা। এর ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ধর্মপল্লী ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের নিরাপত্তাও আরও সুদৃঢ় হবে।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status