ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ● ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
ধর্ষণ মামলার আসামিকে স্বামী হিসেবে পেতে আদালতে যে কাণ্ড ঘটালেন নারী
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 28 September, 2026, 12:39 PM

ধর্ষণ মামলার আসামিকে স্বামী হিসেবে পেতে আদালতে যে কাণ্ড ঘটালেন নারী

ধর্ষণ মামলার আসামিকে স্বামী হিসেবে পেতে আদালতে যে কাণ্ড ঘটালেন নারী

ধর্ষণ মামলার আসামির বিচার না চেয়ে অভিযুক্তকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার দাবিতে ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল করেছেন মামলার বাদী রুনু আক্তার (৩০)। এ সময় তিনি আসামির সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা না করলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার হুমকিও দেন।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার যুক্তিতর্ক চলাকালে বার ডকে দাঁড়িয়ে থাকা রুনু আক্তার বারবার হট্টগোল শুরু করেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক, আইনজীবী ও নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে বিচারক তাকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে। জবাবে রুনু আক্তার বলেন, আসামির সাজা হলে তাকেও ফাঁসি দিতে হবে। তিনি আসামির শাস্তি চান না, বরং তাকে স্বামী হিসেবে চান এবং তার চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিও করেন।

এ সময় বিচারক তাকে বলেন, আদালত কাউকে বিয়েতে বাধ্য করতে পারে না। আসামির অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া সম্ভব।

এরপর রুনু আক্তার চিৎকার করে বলেন, আদালত যেন কাজী ডেকে আল-আমিনের সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করে। তা না হলে তিনি বিষ খেয়ে বিচারকের সামনে আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দেন।

ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আককাস সিকদার জানান, রোববার নারী ও শিশু মামলা নম্বর ১২৫/২৩-এর যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য ছিল। মামলার বাদী রুনু আক্তার রাজাপুর থানার জগন্নাথপুর গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে এবং মনির হোসেনের সাবেক স্ত্রী। মামলার আসামি মো. আল-আমিন মোল্লা রাজাপুর থানার সাবেক এএসআই।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং বিয়ের নাটক সাজিয়ে রুনু আক্তারকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এএসআই আল-আমিন। এ অভিযোগে ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি মামলা করেন।

২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর আল-আমিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। বাদী, তার নাবালক ছেলে মুবিন হোসেনসহ চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

সাক্ষ্য গ্রহণের শেষ পর্যায়ে আরও দুজন সাক্ষী দেশে নেই জানিয়ে বাদী নিজেই সাক্ষ্য সমাপ্ত করার আবেদন করেন। পরে পুলিশও ওই দুই সাক্ষীর বিষয়ে একই প্রতিবেদন দেয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই রুনু আক্তার আদালতে আসামির সঙ্গে তার বিয়ে ও কাবিননামার দাবি জানাতে শুরু করেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

রোববার আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্ক শুরু করলে রুনু আক্তার তার ওপরও চড়াও হয়ে উচ্চস্বরে হট্টগোল করেন বলে জানান আইনজীবী অ্যাডভোকেট মল্লিক মুহা. নাসির উদ্দিন কবীর। তার ভাষ্য, একপর্যায়ে বাদী বিচারককেও হুমকি দিয়ে বলেন, আসামির সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা না করলে রায়ের দিন ট্রাইব্যুনালে সবার সামনে নিজেকে শেষ করে দেবেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আককাস সিকদার বলেন, রুনু আক্তার মৌখিক দাবির পাশাপাশি লিখিত দরখাস্ত দিয়েও আসামির সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। বিয়ে না হলে তিনি নিজে এবং তার আগের স্বামীর সন্তানকে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের সামনে আত্মহত্যা করার হুমকি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

পিপি আরও অভিযোগ করেন, রুনু আক্তার তার ব্যক্তিগত চেম্বারেও গিয়ে তাকে হুমকি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে রুনু আক্তার বলেন, আমি ধর্ষণ মামলা করেছি আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে ফেরত পেতে। তাকে সাজা দিয়ে আমার কী লাভ? আমি যে কোনোভাবে আল-আমিনকে চাই।

মামলাটিতে রোববার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করা হয়েছে।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status