|
৪৯তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি, সুপারিশের পরও নেই ৫৭ প্রার্থী
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ৪৯তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি, সুপারিশের পরও নেই ৫৭ প্রার্থী বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের ভিত্তিতে ৬১১ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রবেশ পদে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা বেতনক্রমে নিয়োগ দেওয়া হলো। নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তারা চাকরিতে যোগদানে সম্মত নন বলে ধরে নেওয়া হবে এবং নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। প্রজ্ঞাপনে নিয়োগের শর্তে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এরপর চাকরিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরকার নির্ধারিত পেশাগত ও বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। নিয়োগপ্রাপ্তদের দুই বছর শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এ শিক্ষানবিসকাল অনূর্ধ্ব দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিসকালে কোনো প্রার্থীকে চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী মনে হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। বুনিয়াদি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শিক্ষানবিসকাল সন্তোষজনকভাবে শেষ হলে সংশ্লিষ্টদের চাকরিতে স্থায়ী করা হবে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণে যাওয়ার আগে নিয়োগপ্রাপ্তদের কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কাছে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। পাশাপাশি একজন জামিনদারসহ ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড দিতে হবে। শিক্ষানবিসকালে অথবা শিক্ষানবিসকাল শেষ হওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে প্রশিক্ষণকালে পাওয়া বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণের জন্য নেওয়া অগ্রিম, ভ্রমণভাতা ও অন্যান্য অর্থ এবং প্রশিক্ষণের পেছনে সরকারের ব্যয় করা অর্থ ফেরত দিতে হবে। চাকরিতে যোগদানের সময় নিয়োগপ্রাপ্তদের ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে আরও একটি বন্ড দিতে হবে। এতে নিজে বা পরিবারের কোনো সদস্য যৌতুক গ্রহণ কিংবা যৌতুক প্রদান করবেন না—এ মর্মে অঙ্গীকার করতে হবে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করে থাকলে বা বিয়ের জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে থাকলে তার নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। নিয়োগের পর কোনো কর্মকর্তার বিষয়ে বিরূপ বা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা নিয়োগ বাতিলের অধিকারও কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ১৩(১) উপবিধি অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বা দখলে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণসংবলিত ঘোষণাপত্র চাকরিতে যোগদানের সময় সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া ১৩(২) উপবিধি অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর ডিসেম্বর মাসে সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধির হিসাবসংবলিত বিবরণী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫ মূলত শিক্ষা ক্যাডারের শূন্য পদ পূরণের জন্য আয়োজন করা হয়। ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে এ পরীক্ষায় ৩ লাখ ১২ হাজারের বেশি প্রার্থী আবেদন করেন। এমসিকিউ পদ্ধতির লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১ হাজার ২১৯ জন। পরে মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২০২৫ সালে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ৬৬৮ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে পিএসসি। তবে কয়েকটি ক্যাডার পদে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫টি পদে কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল। চূড়ান্ত সুপারিশের পর এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলো। ফলে সুপারিশ পাওয়া ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জন এই নিয়োগ প্রজ্ঞাপনে স্থান পাননি। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
