নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে ‘মিস ওয়ার্ল্ড—বাংলাদেশ ২০১৭’ বিজয়ী জেসিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। মূল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে তিনিই গিয়েছিলেন চীনে। সেই জেসিয়া এবারের ‘মিস ইউনিভার্স—বাংলাদেশ ২০১৯’-এ অংশ নিয়েছেন। প্রায় দেড় হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে হয়েছেন দ্বিতীয় রানার আপ। ‘আমি জানতাম না মিস ওয়ার্ল্ডের কেউ চাইলে এখানেও অংশগ্রহণ করতে পারবেন। আগ্রহ ছিল, খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, কোনো সমস্যা নেই। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন করি। পেছনের পরিচয় ভুলে একদম নতুন উদ্যমে নেমে পড়লাম। শুরুতে আয়োজকরাও জানতেন না, সেরা পঞ্চাশের তালিকা হওয়ার পর জানলেন’—বললেন জেসিয়া।
মুকুট জয়ের পর কেউ আবার নতুন মুকুটের জন্য লড়াই করবে কেন? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এ প্রশ্ন করেছেন। এর উত্তর আছে জেসিয়ার কাছে, ‘সুন্দরী প্রতিযোগিতার প্রতি আমি বরাবরই প্যাশনেট। প্যাশনের কারণেই মিস ওয়ার্ল্ডে গিয়েছিলাম। মিস ইউনিভার্সও আমার কাছে বড় একটা প্ল্যাটফর্ম মনে হয়েছে। কোনো বিষয় নিয়ে যখন কেউ প্যাশনেট হয় তখন কে কী বলল তাতে কান দেয় না। আমিও দিই না।’
জেসিয়ার মিস ইউনিভার্সের অভিজ্ঞতা দারুণ। মুকুট জয়ের লড়াইয়ে নেমে প্রচুর পরিশ্রম করেছিলেন। ক্যাম্পেও ছিলেন সিরিয়াস। আগে কী অর্জন করেছিলেন, তা মাথায়ই রাখেননি।
দুই প্রতিযোগিতার মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। মিস ওয়ার্ল্ড নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় প্রত্যেক প্রতিযোগীকে তাঁর নিজ এলাকা এবং নিজ দেশে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম হতে হয়। তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন মিস ওয়ার্ল্ডের মূল প্রতিযোগিতায়। অন্যদিকে মিস ইউনিভার্সে প্রতিযোগীকে নিজ দেশের সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আগে থেকেই মডেলিং বা কালচারাল বিভিন্ন কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে হয়। স্থানীয় সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম হতে হয় তাঁকে।
জেসিয়া বলেন, ‘মিস ওয়ার্ল্ডে মেধা ও সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মিস ইউনিভার্সে শারীরিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি মেধা ও দক্ষতা দেখে নির্বাচন করা হয়। আর মডেলিং, অভিনয়দক্ষতা ও ফ্যাশন প্রতিযোগিতায় জিতে সেরার আসরে আসতে হয়।’
জেসিয়া জানালেন, পুরস্কারেও পার্থক্য রয়েছে, ‘মিস ওয়ার্ল্ড বিজয়ীকে স্কলারশিপ ও নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়। মিস ইউনিভার্সকে স্কলারশিপ ও অর্থের পাশাপাশি প্রথমেই কাজ করার চুক্তি করতে হয়।’
মিস ইউনিভার্সে দ্বিতীয় রানার আপ হওয়ায় অখুশি নন জেসিয়া, ‘যা হয় ভালোর জন্যই হয়। আমি কোন পর্যায়ে যাব সেটা আমার হাতে নেই। আমি চেষ্টাটা করতে পারি। সেটাই করেছি। আমি তো কিছু একটা অর্জন করেছি। দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছি বলে যে এখানেই আমার জীবন শেষ, ব্যাপারটা এমনও নয়। মানুষ আমাকে আগে থেকেই চেনে। নিজেকে জাজ করার জন্য এবার অংশ নিয়েছিলাম।’
মিস ইউনিভার্সে পরের বছরও অংশ নেওয়ার ইচ্ছা তাঁর। এখন থেকেই তার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবারের বিজয়ী শিরিন আক্তার শিলার প্রতিও রয়েছে তাঁর অগাধ আস্থা, ‘সে খুবই সুন্দরী এবং ট্যালেন্টেড। ওর উচ্চতা ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি। এমন উচ্চতার বাংলাদেশি মেয়ে সত্যিই বিরল। ওকে আমি আগে থেকেই চিনতাম। ব্যস্ত মডেল বলা যায়। আশা করি ও বাংলাদেশের জন্য কিছু একটা অর্জন করতে পারবে। আমার কাছ থেকে যদি কোনো পরামর্শ বা সাপোর্ট নিতে চায়, আমার আগের জার্নি থেকে যদি কিছু জানতে চায়—সব সময়ই তার পাশে আছি। আমি পারিনি ও পেরেছে, এখানে কোনো সমস্যা নেই।’
মডেলিংয়েই এখন জেসিয়ার ব্যস্ততা। অভিনয় নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না। টুকটাক অভিনয় যদিও করেছেন, এখন একেবারেই করছেন না। না করার কারণ? ‘তেমন ভালো কিছু হচ্ছিল না। সবে ২০ বছরে পা দিলাম। আমার মনে হয় অভিনয়ের জন্য আরো সময় নেওয়া উচিত।’
ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং নানা কারণে তিনি আলোচিত ও সমলোচিত। সেসব ব্যাপার এড়িয়ে যেতে চাইলেন। এ বিষয়ে তাঁর সোজাসাপ্টা কথা, ‘একটা সম্পর্ক ছিল, সেটা সবাই জানে। এখন কিছু নেই। যা হয় ভালোর জন্যই হয়। নতুন কিছু শেখায়। হয়তো শিক্ষাগুলো সামনে কাজে লাগবে আমার।’