স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে দেবরের কুপ্রস্তাব, ধর্ষণ করলো ভাসুর
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 7 December, 2020, 6:05 PM
স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে দেবরের কুপ্রস্তাব, ধর্ষণ করলো ভাসুর
নেত্রকোনায় গৃহবধূকে ধর্ষণের পর নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন এক নারী। ওই নারীর এক ছেলে ও এক মেয়ের রয়েছে। তার স্বামী মালদ্বীপ প্রবাসী।
স্বামী মো. হারেছ মিয়া ২০১৮ সালে মালদ্বীপে যাওয়ার পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের হাতে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি ওই নারীর। প্রবাসী স্বামীকে বারবার বলার পরেও কোনও উপায় পাননি তিনি।
ভুক্তভোগী নারী জানান, ২০১১ সালে তার বিয়ে হয়। দুবছর আগে স্বামী বিদেশে চলে যান। স্বামীর পাঠানো সব টাকা পরিবারের সবাই মিলে আত্মসাৎ করে আসছিল। আমি ও আমার সন্তানদের ভরণ পোষণের কোনও টাকা না দেওয়ায় আমি প্রতিবাদ করায় আমাকে প্রায় সময়েই গালমন্দ ও মারপিট করত। তা আমি মুখ বুজে সহ্য করে আসছিলাম। স্বামী বিদেশ থাকার কারণে আমার ভাসুর আঙ্গুর মিয়া ও দেবর তামিম ইকবাল রাসেল প্রায় সময়েই আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ও টাকা পয়সা আত্মসাৎ করার পাঁয়তারায় বাড়ি থেকে আমাকে তাড়ানোর জন্য আমার ভাসুরসহ পরিবারের সবাই প্রবাসী স্বামীকে আমার চরিত্রের ব্যাপারে বলে বিষিয়ে তোলে। গেলো ২১ নভেম্বর আমি আমার মেয়েকে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে থাকলে আমার ভাসুর আঙ্গুর মিয়া আমার ঘরে ডুকে মুখ কাপড় দিয়ে চেপে ধরে ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে আমাকে জোর করে ধর্ষণ করে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনা আমার শ্বশুর, শাশুড়ি ও পরিবারের অন্যদেরকে জানালে সবাই আমাকে চরিত্রহীন বলে বেধড়ক মারপিট করে। বিচারের জন্য আমি কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করেছি। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাকে ও আমার বাবার বাড়ির পরিবারের সবাইকে মোবাইলে হুমকি দিচ্ছে। আর যদি মামলা তুলে না নেই, তাহলে তালাক দিবে বলেও আমার স্বামী আমাকে ফোন করেছে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশ কর্মকর্তা কাজী শাহ্ নেওয়াজ জানান, এ বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।