বশেমুরবিপ্রবি প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ
সজিবুর রহমান
প্রকাশ: Tuesday, 22 December, 2020, 8:33 PM
বশেমুরবিপ্রবি প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ
মোঃ আশিকুজ্জামান ভুঁইয়া, যিনি একাধারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ইংরেজি বিভাগের সভাপতি, মানবীকি অনুষদের ডিন, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও সাবেক প্রক্টর। তার বিরুদ্ধে উঠেছে পাহাড় সমান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। অভিযোগের সত্যতা মিলেছে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনেও। প্রকল্প পরিচালকের অনিয়ম সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুদক অবগত থাকা সত্বেও স্বপদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জানা যায় আশিকুজ্জামান ভুঁইয়ার অনিয়ম ও দুর্নীতি। ২০১৯ সালের ১৭ই জুলাই অধিকতর প্রকল্প উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শুরু করে একের পর এক অনিয়ম। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনেও এসকল অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে।
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আশিকুজ্জামান ভুঁইয়া প্রকল্প পরিচালক থাকা অবস্থায় বিধিবহির্ভূতভাবে চাহিদা না থাকা সত্বেও খুলনা শিপইয়ার্ডকে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্র বাবদ সর্বমোট ২৮ কোটি ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৯ টাকা অগ্রীম প্রদান করেন। যা এখন অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে এসকল আসবাবপত্র দেখা যায়। যা রোদ, বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে।
তাছাড়া, অগ্রণী ব্যাংক বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রকল্পের ব্যাংক একাউন্ট থেকে প্রায় ১,৫০০০০ কোটি টাকা নিজ একাউন্টে ট্রান্সফার করেন। অবশ্য, পরে সেই টাকা ফেরত দেন।
আশিকুজ্জামান ভুঁইয়া বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ভুলবশত ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফার হয়েছিল। যা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
উপ-পরিচালক (হিসাব) শেখ সুজাউদ্দিন এবিষয়ে বলেন, আমাদের কাছে কোনো পরামর্শ না নিয়েই এসব কাজ করা হয়েছে। কোনো ডকুমেন্ট ও আমাদের কাছে আসেনি। তারা নিজ দায়িত্বে পরিকল্পনা, প্লানিং ও ওয়ার্কার্স দপ্তর খুলেছে।
উপ-পরিচালক (প্লানিং) তুহিন মাহমুদ বলেন, সহকারী পরিচালক একটি একাউন্ট খোলার কথা বললে আমি পিডি হিসেবে স্বাক্ষর করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ব্যাংক শাখার তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক ছিলেন কার্তিক চন্দ্র মণ্ডল বলেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পিডি’র লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন করা হয়। এ ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়েছে কিনা সেটা তিনি বলতে পারবেন।
এবিষয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড একিউএম মাহবুব বলেন, ইউজিসি, দুদক ও সরকার বিষয়টি জানে। উপর মহল যেহেতু বিষয়টি জানে, সুতরাং এবিষয়ে আমার কিছু করার নেই। যদি উপর মহল এটা না জানতো তাহলে আমি তাদেরকে জানাতাম।
বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ সর্বমহলে সমালোচনার ঝড় বইছে।