ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
১৮ মার্চ সব মহানগরে সমাবেশ করবে বিএনপি
কেন হঠাৎ থেমে পড়ল বিএনপি
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 11 March, 2023, 11:33 AM
সর্বশেষ আপডেট: Saturday, 11 March, 2023, 12:37 PM

কেন হঠাৎ থেমে পড়ল বিএনপি

কেন হঠাৎ থেমে পড়ল বিএনপি

গত বছরের মাঝামাঝিতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করে বিএনপি। ওই সমাবেশে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যে কয়েক জায়গায় পুলিশের গুলিতে দলের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী নিহত হন। ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচির পাশাপাশি নেতাদের হত্যার প্রতিবাদে বিএনপি বিভাগীয় সমাবেশের ডাক দেয়। নানা বাধা ডিঙিয়ে কর্মসূচির দুই দিন আগ থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে অংশ নিতে শুরু করেন। এক দিনের কর্মসূচি তিন দিনের কর্মসূচিতে রূপ নেয়। বাধা ডিঙিয়ে সমাবেশ সফল হওয়ায় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন।

সর্বশেষ তথ্যমতে, আগামী ১৮ মার্চ দেশের সব মহানগরে সমাবেশ করবে বিএনপি। আজ শনিবার রাজধানীর বাড্ডায় মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ ঘোষণা দিয়েছেন।

বিএনপিসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন দল ও জোট গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে এই সমাবেশ হবে বলেছে বিএনপি।

সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে দলটি আজ  সারা দেশের ৭৭টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগরে মানববন্ধন করেছে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত  রাজধানীর দক্ষিণে যাত্রাবাড়ী থেকে শুরু করে উত্তরে টঙ্গীর আবদুল্লাহপুর ব্রিজ পর্যন্ত এক ঘণ্টার মানববন্ধন কর্মসূচি  করে বিএনপি।

দলের নেতাকর্মীদের মতে, ক্ষমতাসীনদের নানা বাধা অতিক্রম করে বিভাগীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা গণসমাবেশ সফল করায় আন্দোলনের পারদ ভিন্ন উচ্চতায় উঠেছিল। কিন্তু ১০ ডিসেম্বরের ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে সাদামাটা কর্মসূচি দেওয়ায় নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েন। ঢাকার গণসমাবেশ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণার পর ‘চূড়ান্ত আন্দোলনের পথ’ সেখানেই থেমে যায় বলে মনে করেন কর্মীরা।

গত ২৪ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি ছিল। সেদিন থেকে প্রায় আড়াই মাস ধারাবাহিক কর্মসূচি দিয়ে আসছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। এরপর ১১ জানুয়ারি অবস্থান কর্মসূচি, ১৬ জানুয়ারি সমাবেশ, ২৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসে’ বিক্ষোভ সমাবেশ, ৪ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় সমাবেশ হয়।

আন্দোলনে ভিন্নতা আনতে ১১ জানুয়ারি ইউনিয়ন পর্যায় থেকে প্রায় এক মাসের পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি মহানগর এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা পর্যায়ে পদযাত্রা করে বিএনপি। এরপর ৪ মার্চ দেশব্যাপী ১৩ মহানগরে থানায় থানায় পদযাত্রা হয়। সেখান থেকে ১১ মার্চ জেলা ও মহানগরে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। যুগপৎ আন্দোলনের বাইরে ঢাকায় মহানগরীতে বিএনপি এককভাবে পাঁচটি পদযাত্রা করে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, কোনো কর্মসূচি ছোট নয়। এসব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে মানুষ মাঠে নেমে এসেছে। রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের গতি ওঠানামা করে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্মসূচি পরিবর্তনও হয়।

চলমান কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আমরা ২০১৪-১৫ সালের মতো হঠকারী আন্দোলন করতে চাই না। আমাদের হাতে সময় আছে। বড় আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি করার জন্য সারা দেশে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আমরা কর্মসূচি দিচ্ছি। কোনো না কোনো পর্যায়ে আন্দোলন দানা বাঁধবে।’

গত ৪ ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টনে এক সমাবেশ থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘এবার ইউনিয়ন পর্যায় থেকে আমরা পদযাত্রা শুরু করব। ধীরে ধীরে উপজেলা, জেলা, মহানগর এবং এরপর ঢাকামুখী লং মার্চের মাধ্যমে সরকারের ক্ষমতার মসনদ জনগণ দখল করে নেবে।’

বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রের বিশ্লেষণ, মার্চে সরকারবিরোধী শক্ত আন্দোলনে যাওয়ার ভাবনা থেকে এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন দলের মহাসচিব। কিন্তু গত কয়েক মাস দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি দেখে মনে হচ্ছে ‘শক্ত আন্দোলনের প্রেক্ষাপট’ তৈরি করা দিন দিন শক্ত হয়ে উঠছে। ফলে আন্দোলনের কৌশল পরিবর্তন করতে হচ্ছে বিএনপিকে।

সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ভার্চুয়াল ওই বৈঠকে নেতারা বলেছেন, বড় কর্মসূচি দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। এখনই শক্ত কর্মসূচিতে গেলে ভালো ফল পাওয়া যাবে না। এর পরই মূলত বড় আন্দোলনের পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে আসেন দলের নীতিনির্ধারকরা।  

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গনমাধ্যমকে বলেন, ‘আন্দোলনের বিভিন্ন স্তরে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি দিচ্ছি। ইউনিয়ন ও থানায় কর্মসূচি দিয়েছি। আগের কর্মসূচিগুলোতে জনগণের ব্যাপক সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছিল। মানববন্ধনে জনসম্পৃক্ততা আরো বাড়বে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিচ্ছি। এতে ফল পেয়েছি। আমাদের কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ যুক্ত হচ্ছে। এর মাধ্যমে একটি গণজোয়ার সৃষ্টি হবে এবং সরকারকে বিদায় নিতে হবে।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status