ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
তেঁতুলিয়ায় মাল্টা চাষী হচ্ছে সফল চায়ের সাথে সাথী ফসল
মুস্তাক আহমেদ, পঞ্চগড়
প্রকাশ: Wednesday, 5 March, 2025, 5:49 PM

তেঁতুলিয়ায় মাল্টা চাষী হচ্ছে সফল চায়ের সাথে সাথী ফসল

তেঁতুলিয়ায় মাল্টা চাষী হচ্ছে সফল চায়ের সাথে সাথী ফসল

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের বাংলাবান্ধা গ্রামের চা চাষী জাফর ইকবাল। ১.৫০ একর জমির মধ্যে চা বাগানের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসাবে ২০২১ সালের লেবু জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ৪৫০ টি বারি ১ জাতের মাল্টা ফলের গাছ লাগান । গত বছর একই জমিতে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার অধিক মাল্টা বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। যা সারা বছরে চা উৎপাদনের ৩ গুন বেশী। কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোসাদ্দেকুর রহমান সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সঠিক পরামর্শ প্রদান করে আসছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কৃষক জাফর ইকবালের মাল্টা বাগানের গাছ গুলোতে অসংখ্য ফুল । জাফর ইকবাল বলেন যে হারে ফুল এসেছে এবার ৫ লক্ষ টাকার অধিক মাল্টা বিক্রি করতে পারবো।

একই উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের শৌখিন চাষী মাহবুবুর রহমান রতন প্রায় এক একর জমির মধ্যে মিশ্র ফসলের প্রকল্পে মাল্টা গাছ লাগিয়েছেন। কৃষক রতন জাফর ইকবালের মাল্টা চাষে সফলতা দেখে আগ্রহী হয়ে উঠে এরপর কৃষি অফিসার মোসাদ্দেকুর রহমানের পরামর্শে মিশ্র চাষের অংশ হিসাবে ১৫০ টি বারি ১ জাতের মাল্টা গাছ রোপন করেন। রতনের মিশ্র ফসলের বাগানে রয়েছে, মিষ্টি কুমড়া,  মরিচ, রসুন, পেয়াজ, সিডলেজ লেবু, মাল্টা, আঠাবিহীন কাঠাল ছাড়াও বিভিন্ন ফলের গাছ। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে  মিশ্র ফসল চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে ।  
২০১৯ সাল থেকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাষিদের বারি মাল্টা-১ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করে। এ সময় আগ্রহী চাষিদের বিনামূল্যে মাল্টা চারাও প্রদান করা হয়। এখন উপজেলার বেশ কয়েক জায়গায় গ্রিন মাল্টার বাগান গড়ে উঠেছে। রসে ভরা এই গ্রিন মাল্টা অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুঘ্রাণযুক্ত। মাল্টা গাছ সারা বছর ফল দেয়।

মাল্টাকে এখন আর বিদেশী ফল বলা যাবে না। কারণ দেশের বিভিন্ন স্থানে এর চাষ হচ্ছে। উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলাতেও বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে মাল্টা। বড় আকারের হলুদ কমলা-মাল্টা চাষে কৃষি অর্থনীতির বিরাট অবদানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় থেকে এসব ফলের বাগান দেখতে আসছেন সাধারণ মানুষ।
উপ-সহাকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: মোসাদ্দেকুর রহমান বলেন প্রথম বছর অতি খরায় গাছের কিছুটা ক্ষতি হয়েছিল। পরবর্তীতে বছরে সব ঠিক হয়ে যায়। জাফর ইকবালের উৎপাদিত মাল্টা শহরে ও গ্রামে  বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা।
তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামানা ফেরদৌস বলেন, মাল্টা ফলটি বিশ্বের উষ্ণ ও অব-উষ্ণমন্ডলীয় এলাকায় বেশি চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশে পাহাড়ি এলাকা ছাড়াও দেশের অন্যান্য এলাকার মতো এ উপজেলায় মাল্টা চাষ হচ্ছে। সমতল ভূমিতে চায়ের পাশাপাশি মাল্টা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে মাল্টা। তা সিংহভাগ আবাদ হচ্ছে চা বাগানে। চায়ের পাশাপাশি মাল্টা চাষ কৃষকদের দ্বিগুণ আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। মাল্টা চাষে আগ্রহী চাষিদের সকল প্রকার সহায়তা দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status