ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
তাড়াশে রশি টেনে নদী পারাপার, আশ্বাসে আটকে আছে সেতু
সাব্বির মির্জা,তাড়াশ
প্রকাশ: Sunday, 24 August, 2025, 6:34 PM
সর্বশেষ আপডেট: Sunday, 24 August, 2025, 6:37 PM

তাড়াশে রশি টেনে নদী পারাপার, আশ্বাসে আটকে আছে সেতু

তাড়াশে রশি টেনে নদী পারাপার, আশ্বাসে আটকে আছে সেতু

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নাদোসৈয়দপুর গ্রামে গুমানী নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত অনেক জনপ্রতিনিধি এ সেতুটি নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্তত ৫৪ বছর ধরে এ সেতুর অপেক্ষায় দিন গুনছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। ফলে এখন রশি টেনে টেনে নদী পার হচ্ছে যাতায়াতকারী। তবে, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের।

গুমানী নদীর  উওর পাড়ে নাদোসৈয়দপুর গ্রাম। দক্ষিণ পাড়ে চরকুশাবাড়ি গ্রাম। এ দুই গ্রামগুলোকে যুক্ত করেছে নদীর বুকে টানানো একটি খেয়া পারাপারের রশি। তাড়াশ  উপজেলার নাদোসৈয়দপুর-চরকুশাবাড়ি গ্রামের গুমানী নদীর ওপর প্রতিশ্রুত সেতুটি ৫৪ বছরেও নির্মাণ করা হয়নি। দৃশ্যত এ দুই গ্রামকে দুই ভাগ করে রেখেছে গুমানী নদীটি। কিন্তু এখানে নেই পারাপারের কোনো সেতু।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নদীর উভয় পাড়কে সংযুক্ত করে টানানো হয়েছে একটি মোটা রশি। ছোট্ট একটি নৌকা করে যাত্রীরা টানানো রশি ধরে টেনে টেনে নদীর এপার থেকে ওপারে যাচ্ছেন। এতে শিশু ও বৃদ্ধরা পড়ছেন চরম ঝুঁকিতে। ভরা মৌসুমে প্রায়ই ঘটে নৌকাডুবির ঘটনা। একটি মাত্র সেতুর অভাবে স্কুলকলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীকে পোহাতে হয় অসহনীয় দুর্ভোগ।

স্থানীয়রা জানান, কেনাকাটা ও চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে চরকুশাবাড়িসহ এলাকাবাসীকে যেতে হয় গুরদাসপুর উপজেলায়। তাছাড়া উপজেলার নাদোসৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও হাসপাতালে যেতে হলে এলাকাবাসীকে গুমানী নদী পার হতে হয়। বর্ষা মৌসুমে যখন বানের পানিতে নদীটি টইটুম্বুর হয়ে যায় তখন নদী পারাপারে জীবনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এলাকাবাসীর দাবি, গুমানী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে পাল্টে যাবে উভয় পাড়ে বসবাসরত  হাজার মানুষের জীবনযাত্রা।
 নাদোসৈয়পুর গ্রামের  গুমানী  নদীতে এ সেতুটি নির্মাণ করা হলে দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ সবার যাতায়াত সুগম ও নিরাপদ হবে। বিশেষ করে ওই এলাকার কৃষিজীবী মানুষ তাদের কৃষি পণ্য সহজে ও স্বল্পমূল্যে পরিবহন এবং বাজারজাত করতে পারবেন।

চরকুশাবাড়ি নিবাসী বস্ত্র ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নাদোসৈয়দপুর বাজারে স্থায়ীভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করি। গুমানী নদী পার হয়ে প্রতিদিন আমাদের যাতায়াত করতে হয়। এমনকি জেলা শহরে যাতায়াতেও আমাদের এ নদী পার হয়ে যেতে হয়। এ এলাকায় সারা বছর কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়। নদী পারাপারে গুমানী সেতুটি নির্মাণ করা হলে এলাকার কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো সহজ হবে। এতে কৃষিজীবী মানুষ যারপরনাই উপকৃত হবে।’

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) মো. ফজলুল হক জানান,  গুমানী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য ডিজাইন প্রস্তুত হয়েছে। কিন্তু খোঁজখবর নিয়ে দেখলাম এখন পর্যন্ত ওই সেতুটি নিয়ে কোনো ধরনের প্রস্তাবনাও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দেওয়া হয়নি। তবে জনস্বার্থে ব্রিজটি নির্মাণের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করা হয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন,  এ ব্যাপারে আমার পরিষ্কার ধারণা নেই। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যত ধরনের উদ্যোগ নেয়া দরকার তা নেয়া হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status