ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
কাস্টমস কর্মকর্তাকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফেলে দিয়েছিল ছিনতাইকারীরা: র‌্যাব
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 27 April, 2026, 2:41 PM
সর্বশেষ আপডেট: Monday, 27 April, 2026, 2:52 PM

কাস্টমস কর্মকর্তাকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফেলে দিয়েছিল ছিনতাইকারীরা: র‌্যাব

কাস্টমস কর্মকর্তাকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফেলে দিয়েছিল ছিনতাইকারীরা: র‌্যাব

কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশ থেকে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনার সঙ্গে ছিনতাইকারী চক্র জড়িত বলে তথ্য দিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন, ঘটনার রাতে ছিনতাইকারী চক্রের চারজন অটোরিকশাসহ অপেক্ষায় ছিল। বুলেট বৈরাগী বাস থেকে নামলে চালক ও যাত্রী বেশে থাকা তিনজন তাকে ডেকে অটোরিকশায় তোলে।

এরপর অস্ত্রের মুখে মোবাইল-মানিব্যাগ কেড়ে নিয়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে ওই কাস্টমস কর্মকর্তার মৃত্যু হয়।মহাসড়কের পাশ থেকে বুলেট বৈরাগীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব বলছে, তারা সবাই ‘পেশাদার ছিনতাইকারী’।গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং সুজন। রোববার কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার ঢাকার কারওয়ানবাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক বলেন, সুজনের কাছ থেকে বুলেট বৈরাগীর মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।“বাকি চারজন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চুরি-ছিনতাই ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।”

চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাতে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন ৩৫ বছর বয়সী কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী।
রদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেখান থেকেই গত ১১ এপ্রিল ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন।

বুলেট বৈরাগীর মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে শনিবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তার মা নীলিমা বৈরাগী।

পরদিনই এ ঘটনায় ৫ জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য দিয়েছিলেন র‌্যাব-১১ অধিনায়ক সাজ্জাদ হোসেন।সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, "হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরো অনেকেই জড়িত আছে। পরবর্তী তদন্তে সেসব বের হয়ে আসবে।"

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “গ্রেপ্তাররা দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের রাতের বেলা টার্গেট করে তাদের সিএনজি বা অটোতে তুলে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং আঘাত করে ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠন করে আসছিল।

“ঘটনার রাতে তারা সিএনজি নিয়ে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল।”

তিনি বলেন, রাত ৩টার দিকে বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে জাগরঝুলি এসে বাস থেকে নামলে তারা তার গন্তব্যস্থল জানতে চায়। তখন তিনি জাঙ্গালিয়া যাওয়ার কথা বললে অটোরিকশার পেছনে যাত্রীবেশে থাকা সোহাগ ও হৃদয় তাদের পাশে বসতে বলে।

"সিএনজিটি জাঙ্গালিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর সোহাগ ও হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলেট বৈরাগীকে আঘাত করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। এ সময় ভিক্টিমের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তিও হয়।"

ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে জনি চাকু বের করে ভিক্টিমকে ভয় দেখায়, মারধর করে এবং ভিক্টিমের সাথে থাকা নগদ, টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়।”

গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‌্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, "অটোরিকশাটি কোটবাড়ি বিশ্বরোড অতিক্রম করলে তারা ভিক্টিমকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।"

প্রথমে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং পরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ফলে মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে বুলেট বৈরাগী মারা যান বলে জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক।

পুলিশও জানিয়েছে, বুলেট বৈরাগীর মাথার পেছনে গুরুতরভাবে থেঁতলানো ছিল।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, বুলেট বৈরাগী প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার জন্য শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে ঢাকাগামী বাসে ওঠেন। পথে তার কুমিল্লা বাইপাসে নেমে যাওয়ার কথা।

সর্বশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ফোন করে তিনি কুমিল্লা নগরীর টমসন ব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিলেন।

তবে তার মা নীলিমা বৈরাগী বলেছিলেন, শেষবার কথা বলার সময় তার ছেলের কণ্ঠ ‘অপরিচিত’ মনে হয়েছিল।

এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বুলেট বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা কল দিয়ে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো হদিস না পেয়ে শনিবার সকালে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। এর পরপরই সড়কের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।

বুলেট বৈরাগী মোবাইলে টমসন ব্রিজে পৌঁছানোর কথা বলেছেন, সেখানে যেতে হলে তার পদুয়ারবাজার স্টপেজে নামার কথা।

সেখানে না নেমে তিনি জাগরঝুলিতে নেমেছেন কেন জানতে চাইলে র‌্যাব-১১ অধিনায়ক সাজ্জাদ বলেন, “পদুয়ার বাজারের পরের স্টেশন এটা। গভীর রাতে এমনও হতে পারে, হয়তবা সে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল, স্টেশনটা পার হওয়ার পরে সে নেমেছে।

"একচুয়ালি কী ঘটেছিল সেটা তো আমরা বলতে পারব না। ব্যক্তি নিজেই বলতে পারবেন কেন তিনি পরের স্টেশনে নামলেন।"

নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া বাবুপাড়া গ্রামের সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদে ঢাকা কাস্টমস কার্যালয়ে যোগ দেন।

চাকরির সুবাদে কুমিল্লা শহরের রাজগঞ্জ সংলগ্ন পানপট্টি এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন তিনি। তার বাবা, মা ও স্ত্রী ছাড়াও এক বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status