ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ২০ জুন ২০২৬ ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শেরপুরে অটোরিকশা চালক আশরাফুল হত্যার আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে ; আতঙ্কে পরিবার
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 20 June, 2026, 11:09 AM

শেরপুরে অটোরিকশা চালক আশরাফুল হত্যার আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে ; আতঙ্কে পরিবার

শেরপুরে অটোরিকশা চালক আশরাফুল হত্যার আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে ; আতঙ্কে পরিবার

শেরপুরের শ্রীবরদীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আশরাফুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন মূল অভিযুক্তরা। উল্টো এক আইনজীবী ও প্রভাবশালী আসামিপক্ষের হুমকি-ধামকিতে আতঙ্কে রয়েছেন বাদীপক্ষ। দ্রুত সময়ের মধ্যে আশরাফুল হত্যার মূল আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তবে পুলিশের দাবি, মূল হোতাদের গ্রেফতারে জোর অভিযান চলছে। এদিকে প্রধান আসামি অ্যাডভোকেট হওয়ার কারণে কোর্টে উকিল না পেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবার সম্ভবনা দেখছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, হত্যার শিকার আশরাফুল একসময় ঢাকায় গার্মেন্টেসে কাজ করতেন। বেশ কিছুদিন আগে চাকরি ছেড়ে দিয়ে শ্রীবরদী উপজেলার খরিয়াকাজীরচর ইউনিয়নের মাদারপুর এলাকায় গ্রামের বাড়িতে এসে ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি কিনে চালানো শুরু করেন। স্থানীয় অ্যাডভোকেট শাজাহান, নুরুল আমিন লেংটা মেম্বার ও আবুল হাশেম সরকার গংদের সাথে আশরাফুল ইসলাম, তার ভাই শাহালমদের জমিসংক্রান্ত পূর্ববিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১৬ মে আশরাফুলদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাদের ঘরবাড়িতে ভাংচুর চালানোসহ আগুন লাগিয়ে দেয় প্রতিপক্ষ।

এর দুদিন পর আবার তাদের বাড়িতে হামলা চালায় অ্যাডভোকেট শাজাহান, নুরুল আমিন লেংটা মেম্বার, তার ছেলে সংগ্রাম, রাকিব, আবুল হাশেম সরকারসহ ২৫/৩০ জন। ওইসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আশরাফুল। গুরুতর আহত হন মাহালম, শরীফ মিয়া, শামীম মিয়াসহ বেশ কয়েকজন। ওই ঘটনায় পরদিন ২৮ জনকে স্বনামে ও আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত আশরাফুলের ভাই মোঃ শাহালম। আর ঘটনার দিন আসামিপক্ষের ৪ নারীকে ধরে থানা পুলিশে সোপর্দ করেন বাদীপক্ষরাই। তবে এর বাইরে মূল আসামিসহ আর কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত আশরাফুলের পরিবার।

এদিকে এলাকাবাসি বলছেন, মামলার আসামি নুরুল আমিন লেংটা মেম্বার এক সময় চেয়ারম্যানের মোটরসাইকেল চুরি করে ধরা পরেন। তার এক ছেলে লাশ কাটা ঘরের ডোম ছিলো। স্থানীয় বাজারে এক ছেলে কশাই এর কাজ করে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে মারামারি, মাদক কারবারি ও সরকারি কর্তব্যকাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ সহ কয়েকটি মামলা থাকলেও প্রভাব প্রতিপত্তি দেখিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। কোন মানুষ তাদের ভয়ে কথা বলার সাহস পায়না। তারা  অপরাধ করার পরেও মামলার প্রধান আসামি অ্যাডভোকেট শাজাহান তাদের বার বার রক্ষা করে যাচ্ছে।

মামলার বাদী মোঃ শাহালম জানান, হত্যা ও হামলার সাথে জড়িতদের ধরা দূরে থাক, উল্টো আসামিরা আমাদের মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। কোর্টে কোন বড় উকিল আমাদের পক্ষে লড়তে চায়না। কারন মামলার প্রধান আসামী একজন উকিল। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় সব ধরনের অপরাধ থেকে পার পেয়ে যায়। আমার ভাই হত্যার বিচারও পাব কিনা জানি না। তাদের অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ।

এদিকে স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী শিউলী বেগম। ছোট ছোট বাচ্চা তিনটি নিয়ে কি করবেন, কিভাবে চলবেন সেই দুঃশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, আমার স্বামী খুব নিরীহ ছিল। যারা আমার স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, সেই খুনীদের বিচার চাই, তাদের ফাঁসি চাই। কতদিন হয়ে গেল পুলিশ একটা আসামিও ধরতে পারছে না। আশরাফুলের বৃদ্ধ মা আজিরন বেগম বলেন, আমার ছেলেটারে যারা হত্যা করছে, তাদের ফাঁসি চাই।


এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ মিজানুর রহমান ভুঁঞা বলেন, আমরা আশরাফুল হত্যা মামলার সাথে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছি। তবে মূল আসামিদের এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে। আশা করছি দ্রুতই আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status