|
এক হাত আইনের হলেও অন্য হাত মানবিকতার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরীর
মোঃ লোকমান হোসেন, দীঘিনালা
|
![]() এক হাত আইনের হলেও অন্য হাত মানবিকতার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরীর দীঘিনালায় যোগদানের পর থেকেই মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং অভিযান পরিচালনা করছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে মাদক সেবন ও কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানও চালানো হচ্ছে। অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গত ২৭ জুলাই তাকে খাগড়াছড়ি জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার এ সম্মাননা প্রদান করেন। তবে আইন প্রয়োগের কঠোরতার পাশাপাশি অসহায় মানুষের দুর্দশায় মানবিক হয়ে ওঠার ঘটনাও সামনে এসেছে। ঘরহীন বৃদ্ধা জহুরা বেগমের (৭৫) দুর্দশার কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ওসি। খাবারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বৃষ্টির সময় ও মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে তাকে মশারি দেওয়ার উদ্যোগও নেন। জহুরা বেগম বলেন, আমার পৃথিবীতে কেউ বেঁচে নেই। আমি বৃদ্ধাশ্রমে যেতে চাই না। পুলিশ আমাকে খাবার দিয়েছে। মশা কামড়াবে দেখে মশারি এনে দিয়েছে। এতে আমি অনেক উপকার পেয়েছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মা বলেন, তাঁর ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে প্রায়ই ঘরবাড়ি ভাঙচুর করতেন এবং স্ত্রীকে মারধর করতেন। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে তিনি থানায় গেলে ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী ওই যুবককে থানায় এনে আটক করেন এবং মাদক থেকে দূরে থাকার বিষয়ে বুঝিয়ে বলেন। ওই নারী বলেন, এরপর থেকে সে আগের মতো ঝামেলা করে না। শুনেছি দীঘিনালার কোনো কোনো মাদক কারবারি এখন আর এলাকায় থাকতে পারে না। ছেলেপেলেরা নেশার জিনিস না পেলে নেশা করবে না, ভালোভাবে চলবে—এমনটাই আমরা চাই। বিরল রোগে আক্রান্ত দেড় বছর বয়সী শিশু সামিয়ার চিকিৎসায়ও সহযোগিতা করেছেন ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী। শিশুটির মা জানান, অর্থের অভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। বিষয়টি জানতে পেরে সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি ওসির কাছে গেলে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করেন তিনি। শিশুটির মা বলেন, “আমার মেয়েটা অসুস্থ। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিলাম না। লজ্জায় কারও কাছে চাইতেও পারিনি। পরে ওসি স্যারের কাছে গেলে তিনি সহযোগিতা করেন এবং মেয়েকে চিকিৎসা করাতে বলেন। আরও প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করবেন বলেও জানিয়েছেন।” স্থানীয়দের ভাষ্য, পুলিশের দায়িত্ব শুধু অপরাধী আটক করা নয়; বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও জনসেবার অংশ। দীঘিনালায় ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরীর কর্মকাণ্ডে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা। মানবিকতার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, পুলিশরাও মানুষ। মানুষের কষ্ট দেখলে তাদেরও মন কাঁদে। আমি ছোট মানুষ। কাজের ফাঁকে একটু সময় পেলেই মানুষের সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। মাদকবিরোধী অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোনো মাদক কারবারি কিংবা মাদকসেবীকে দীঘিনালায় অবাধে মাদক কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না। দীঘিনালাকে মাদকমুক্ত করতে হলে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে এবং পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। একদিকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান, অন্যদিকে অসহায় মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত—দুই ভিন্ন ভূমিকায় দীঘিনালার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরীর কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
