ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু
চালকের আসনে ছিল কিশোর, মামলায় আসামি আরেকজন
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 23 September, 2026, 9:52 PM

চালকের আসনে ছিল কিশোর, মামলায় আসামি আরেকজন

চালকের আসনে ছিল কিশোর, মামলায় আসামি আরেকজন

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানের (২৪) মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দেন। পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও পরে তার চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


তবে এ ঘটনায় গুলশান থানায় করা মামলায় ওই কিশোরকে আসামি করা হয়নি। মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিল এবং চালকের আসনে থাকা কিশোরকে আটক করার পরও কেন তাকে মামলায় আসামি করা হলো না।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেলে সড়কের পাশের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। ওই সময় একটি দ্রুতগতির প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। গাড়ির নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন মেহেদী। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে গাড়ির নিচ থেকে বের করে আনেন।

পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ওই কিশোরের নাম উল্লেখ না করার বিষয়ে মোক্তাদীর ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

গাড়িটি চালাচ্ছিল কিশোর

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন গাড়িটির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশও তাকে হেফাজতে নেয়।

পুলিশের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। ওই কিশোর যাতে ক্ষুব্ধ জনতার হাতে ‘মবের শিকার’ না হয়, সে জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে রাতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার চাচার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ও-লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন এবং চাপা দেওয়া গাড়িটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।

সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুর্ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে ওই কিশোরকেই চালকের আসনে দেখা গেছে।

ফুটেজে দেখা যায়, গাড়িটি মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর একটি ল্যাম্পপোস্টে সজোরে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। এরপর গাড়ি থেকে দুজনকে বের হতে দেখা যায়।

গাড়ির ডান পাশের দরজা দিয়ে চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোর বেরিয়ে আসে। আর অন্য পাশ দিয়ে শার্ট পরা মধ্যবয়সী একজন বের হন।

গাড়ির চারপাশে লোকজন জড়ো হওয়ার পরও দুজন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। পরে কিশোরটিকে ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে চলে যেতে দেখা যায়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

চালক কিশোর হলেও আসামি অন্যজন

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আকাশ মারক (৪৪) বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মেহেদী হাসানকে চাপা দেন। এতে মেহেদীর মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকে আকাশ মারক পলাতক রয়েছেন। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘতনায় ওই কিশোরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

এ বিষয়ে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘নিহত মেহেদীর বড় ভাই গাড়িটির চালক আকাশ মারকের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। ওই কিশোরের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status