জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সংসদ-সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় মামা ওবায়দুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার তাকে গ্রেফতারের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-২)। পরে তাকে আদালতে নেওয়া হলে কারাগারে রাখার আদেশ দেওয়া হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এসআরবি মিরপুর এলাকা থেকে ওবায়দুরকে গ্রেফতার করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওবায়দুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। যেহেতু মামলাটি ডিবিতে তদন্তাধীন, তাই তাকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করেছি।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ওবায়দুরকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও বিভাগের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। পরে মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো বুধবারও রিমান্ডে গাজী নজরুলকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্টরা। স্ত্রীর আত্মহত্যায় তার ভেতরে কষ্ট তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এমনকি অসম বয়সের মেয়েকে বিয়ে করায় কোনো দোষ দেখেন না তিনি।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা মৃত্যুর পেছনে গাজী নজরুল বা তার প্রথম স্ত্রীর সরাসরি কোনো ইন্ধন রয়েছে কি না, সেটি বের করার চেষ্টা করছেন।
এক কর্মকর্তা বলেন, মরিয়মের লিখে যাওয়া চিরকুট দেখে মনে হয়, তিনি স্ত্রীর যথাযথ অধিকার ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। এমনকি লোকে নানা ধরনের কটু কথা বলত, যা তাকে ব্যথিত করত।
গাজী নজরুল অধিকার ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করার কথা স্বীকার করেননি। তবে লোকের কটু কথা বলার বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে তাকে জানানো হয়েছিল, যা তিনি ডিবির কাছেও স্বীকার করেছেন।
ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে রোববার সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ছাড়াও নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন বাবা এসএম মাসুম বিল্লাহ।