|
জাসদ কার্যালয়ে দিনভর যা ঘটলো
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() জাসদ কার্যালয়ে দিনভর যা ঘটলো সরেজমিনে জাসদের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের কয়েকশো নেতাকর্মী জাসদের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছে। তারা ‘হই হই রই রই, আওয়ামী লীগ গেলি কই’, ‘ধরি ধরি ধরি না, ধরলে কিন্তু ছাড়ি না’, ‘আওয়ামী লীগের চামড়া, তুলে নিবো আমরা’ প্রভৃতি স্লোগান দিচ্ছেন। জানা যায়, জাসদের কার্যালয় দখল নেওয়া এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করার নেতৃত্ব দিয়েছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন। এসময় পল্টন থানা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কার্যালয়টি ঘিরে রাখেন। নয়নের নেতৃত্বে জাসদ কার্যালয়ে যুবদলের নেতাকর্মীরা জাসদের কার্যালয় থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুলিশ আটক করার আগেই সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন। এসময় তাকে জাসদ কার্যালয়ের সামনে এবং ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছেন। জাসদ কার্যালয় দখল ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুলিশে সোপর্দের বিষয়ে রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, আজ সকালে আমাদের ‘নেটওয়ার্ক জালে’ আওয়ামী লীগের স্লোগান দিয়ে মিছিল করার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন। পরে নেতৃত্ব পর্যায়ের লোকজন জানতে পারেন, জাসদ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে একত্র হয়ে সভা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে আসার পরে এতটুকু নিশ্চিত করেছি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাহেবের আদর্শ, কোনও জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন; এটা করা যাবে না। সেই কারণে আমরা তাদের যাতে কোনো পাবলিক গায়ে হাত না দেয় এবং গায়ে হাত দিলে এত হাজার হাজার লোকের ভেতর একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সেটা সহযোগিতা করছি, যাতে কেউ গায়ে হাত না দেয়। অনেক বৃদ্ধ লোক আছে, অনেক নারী আছেন, অনেক ইয়াং লোক আছে; গায়ে হাত দিলে একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেই দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেটাই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ যুবদলের এই নেতা আরও বলেন, ‘এটা হলো মানবিক সরকার, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাহেবের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান সাহেবের সরকার। আইন নিজের হাতে তুলে নেয় না জাতীয়তাবাদী দল এবং জাতীয়তাবাদী যুবদল। আমরা সেদিকে লক্ষ্য রেখে এখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যারা আছে তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’ এসময় হুঁশিয়ারি দিয়ে নয়ন বলেন, আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের ‘দোসররা’ যাতে ঢাকার কোথাও মিছিল-মিটিং করতে না পারে; সে বিষয়ে ঢাকা মহানগর যুবদলের প্রতিটি ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। জাসদ কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়েছিল জামায়াতের নেতাকর্মীরাও জাসদের কার্যালয় থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুলিশ আটক করার সময় জামায়াতের বেশকিছু নেতাকর্মীকে ও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পল্টন থানার সেক্রেটারি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সূরা সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা যখন শুনতে পেরেছি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে গেদারিং করছে তখন পল্টন থানার আওতাধীন জামায়াতের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়েছিল। পল্টন মোড় থেকে আমরা মিছিল নিয়ে জাসদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছি। সেখানে অনেক্ষণ ছিলাম, সন্ধ্যার পর ওখান থেকে আসছি। এদিকে জামায়াতের উপস্থিততে যুবদল নেতা নয়ন বলেন, ‘পাকিস্তানিদের পৃষ্ঠপোষকতায় একটা ১১ দলীয় জোট হয়েছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় ককটেল মারছে, বোমা মারছে; আপনারা জানেন, তারা নিজেরাও এটা স্বীকার করেছে। বিএনপি বলেছে, তাদেরকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। কেন জিজ্ঞাসাবাদ করছে না; এটা আমাদের বোধগম্য নয়। জাসদের দাবি প্রতিনিধি সভার আবেদন করা হয়েছিল, পুলিশ বলছে ‘জানা নেই’ রাজধানীর গুলিস্তানে নিজেদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিনিধি সভায় মাইক ব্যবহার ও নিরপাত্তা দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেছিল বলে দাবি করছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। চিঠির একটি অনুলিপির ছবিও দিয়েছে দলটি, যাতে ‘রিসিভড’ সিল ও সই রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এই বিষয়ে কিছু জানেন না। জাসদের একজন নেতা বলেন, প্রতিনিধি সভায় মাইক ব্যবহার ও সভার নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ও ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি বরাবর গত ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনগুলো রিসিভও করা হয়। এরপরও আজ শানিবার কার্যালয়ে হামলা ও অভিযান চালানো হয়। এটা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা প্রত্যেকেই এই বিষয়ে অবগত নন, বলে জানান। এবিষয়ে পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এমন আবেদনের বিষয়ে আমার জানা নেই।’ এদিকে সন্ধ্যায় ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জাসদ কার্যালয়ের সামনে এক ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা একত্র হয়ে নাশকতার উদ্দেশ্যে অথবা অন্যকোন অসৎ উদ্দেশ্য এখানে জড়ো হয়েছিল। এই সংবাদ পেয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে। স্থানীয় ছাত্রজনতা পুলিশকে সহযোগিতা করেছে। তিনি আরও বলেন, তারা আসলে কি উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছিল এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তারা যে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছে সেই তথ্য আমাদের কাছে আছে। এছাড়াও তারা আর কোন কর্মকান্ড করেছেন কিনা সেসব বিষয় যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কতজনকে আটক করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জন হবে। আমরা তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় নিয়ে গেছি। যাচাই-বাছাই করে যারা যার যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের নামে মামলা হবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না তাদের অন্য যে প্রক্রিয়া আছে আমরা সেই প্রক্রিয়া অবলম্বন করবো।’ |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
