ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ● ৩ অক্টোবর ২০২৬ ● ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
আগাম সবজি এলেও কমেনি দাম
চট্টগ্রামের বাজারে শিম ২৪০, ফুলকপি ২০০ টাকা
মো. মোক্তার হোসেন বাবু
প্রকাশ: Saturday, 3 October, 2026, 9:06 PM

চট্টগ্রামের বাজারে শিম ২৪০, ফুলকপি ২০০ টাকা

চট্টগ্রামের বাজারে শিম ২৪০, ফুলকপি ২০০ টাকা

শীতের আগাম সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। বাড়ছে সরবরাহও। কিন্তু তাতে চট্টগ্রামের নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। অধিকাংশ সবজি এখনো ৮০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। শিমের কেজি উঠেছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত। ফুলকপি ২০০, বেগুন ও টমেটো ১২০ এবং বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শুধু সবজি নয়, মাছ, মাংস, ডিম ও ভোজ্যতেলের বাজারেও চড়া দাম বিরাজ করছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমলেও খুচরা বাজারে এর সুফল মিলছে না। নগরের বিভিন্ন দোকানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ২১০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত দাম ২০৪ টাকা।

শুক্রবার ও শনিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন খুচরা বাজার এবং চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারের সাম্প্রতিক দর পর্যালোচনায় নিত্যপণ্যের এই চিত্র পাওয়া গেছে।

সবজিতে স্বস্তি নেই


আগাম শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি। ফুলকপি ২০০, বেগুন ও টমেটো ১২০ টাকা। বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। ঢ্যাঁড়শ, শসা, তিতা করলা, ঝিঙে, ধুন্দুল, মুলা ও বাঁধাকপির দাম কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

তবে কাঁচা মরিচের দামে কিছুটা কমতি দেখা গেছে। কয়েক দিন আগেও কেজি ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৪০ টাকার আশপাশে পাওয়া যাচ্ছে।

চালেও বাড়তি চাপ

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী। মানভেদে মিনিকেট আতপ চালের বস্তা ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা, দিনাজপুরী পাইজাম ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ টাকা এবং কাটারিভোগ ৩ হাজার ৯০০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দূরপাল্লার পণ্য পরিবহনে। চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ট্রাকভাড়া ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীদের উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডালের চাহিদায় ভাটা

পাইকারি বাজারে ডালের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বিক্রি কমেছে। ২৪ সেপ্টেম্বরের বাজারদর অনুযায়ী ভারতীয় চিকন মসুর ডাল কেজি ১৫২ টাকা, মোটা মসুর ৮১, মুগডাল ১১৫, চনার ডাল ৯৭ এবং মটর ডাল ৫৩ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ছোলার ডাল ছিল ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৯৪ টাকা।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, পরিবহন ব্যয় আরও বাড়লে এর প্রভাব ডালের খুচরা বাজারেও পড়তে পারে।

পাইকারিতে তেল কমলেও খুচরায় বাড়তি

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ভোজ্যতেলের পাইকারি দর মণে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমেছে। কিন্তু সেই কমতির সুফল এখনো খুচরা বাজারে পৌঁছেনি।

নগরের বিভিন্ন দোকানে লিটারপ্রতি সয়াবিন তেল ২১০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েকটি দোকানে পর্যাপ্ত বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলেও বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মাছ-মাংসেও বাড়তি খরচ

মাছের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দাম কমেনি উল্লেখযোগ্যভাবে। চট্টগ্রামের বাজারে রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৩০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। গরুর মাংস হাড়সহ ৮৫০ টাকা থেকে হাড় ছাড়া ১ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং খাসির মাংস প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি। ব্রয়লার মুরগি ১৭০, সোনালি ৩১০ এবং দেশি মুরগি ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা।

খুচরা বাজারে দামের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের বড় পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে কোনো কোনো পণ্যের দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রতিফলন না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পষ্ট। পাইকারিতে দাম কমার পরও খুচরা বাজারে তা সরকার নির্ধারিত মূল্যের ওপরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের অনলাইন বাজারদরেও চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, কাঁচা মরিচ, মুরগি, ডিম ও মাংসের দর প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের দামের পার্থক্য নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বস্তির অপেক্ষায় ক্রেতা

শীতের সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে কয়েকটি পণ্যের দাম কমতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এখন পর্যন্ত বাজারে তার দৃশ্যমান প্রভাব নেই। উল্টো জ্বালানি তেলের বাড়তি দামে পরিবহন ব্যয় বেড়ে চাল, ডালসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

ফলে চট্টগ্রামের ক্রেতাদের প্রশ্ন-পাইকারি বাজারে কোনো কোনো পণ্যের দাম কমলেও সেই সুবিধা খুচরা বাজারে পৌঁছাবে কবে? বাজারে নিয়মিত নজরদারি, সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং পাইকারি-খুচরা দামের ব্যবধান যাচাইয়ের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরার বিষয়টি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status