কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলার ৭২টি পূজামণ্ডপে সরকারি খাদ্যশস্যের বরাদ্দপত্র বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে মোট ৪৩ হাজার ২০০ কেজি (৪৩ দশমিক ২ টন) চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বরাদ্দপত্র বিতরণ ও আলোচনা সভায় পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের হাতে এসব বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হাসান। এতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌলাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অমল চন্দ্র বর্মন, ফুলবাড়ী হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সুকুমার সেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শামছুজ্জামান হাসু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. আব্দুর রহমান ও উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক নাজমুল ফেরদৌস লাভলু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক লোকমান হোসেন সরকার।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করে আসছেন। এই সম্প্রীতি ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে দুর্গাপূজায় পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি পুলিশ ও র্যাবের টহল জোরদার থাকবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের সার্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পূজা উদ্যাপন পরিষদ এবং বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিরা ছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারা সরকারি বরাদ্দ ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত সহযোগিতায় ফুলবাড়ীতে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।