ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ● ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ২ কার্তিক ১৪৩৩
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জে এম সেন হলে বাড়তি প্রস্তুতি, পরিচ্ছন্নতায় মাঠে চসিক
মহানবমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা তারেক রহমানের, ২৯৪ মণ্ডপে আর্থিক অনুদান দিয়েছে সিটি করপোরেশন
মো: মোক্তার হোসেন বাবু
প্রকাশ: Sunday, 18 October, 2026, 5:22 PM

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জে এম সেন হলে বাড়তি প্রস্তুতি, পরিচ্ছন্নতায় মাঠে চসিক

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জে এম সেন হলে বাড়তি প্রস্তুতি, পরিচ্ছন্নতায় মাঠে চসিক

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে নগরে বাড়তি তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে সামনে রেখে নগরের ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মণ্ডপের আশপাশের সড়ক পরিচ্ছন্ন রাখা, বর্জ্য অপসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং দর্শনার্থীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমীর দিন রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্গাপূজা উপলক্ষে তাঁর এই সফরকে ঘিরে পূজার্থী, আয়োজক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মণ্ডপের ভেতরের আয়োজনের পাশাপাশি বাইরের পরিবেশ, সড়কের অবস্থা এবং জনসমাগম ব্যবস্থাপনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। পূজার সময় দর্শনার্থীদের ভিড় সামলে স্বাভাবিক নাগরিক চলাচল বজায় রাখাই এখন সংশ্লিষ্টদের অন্যতম লক্ষ্য।

মণ্ডপ পরিদর্শনে মেয়র, প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা

চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুর্গাপূজার আয়োজন হয় জে এম সেন হলে। প্রতিবছরই বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে এখানে। এবার দুর্গোৎসবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফর যুক্ত হওয়ায় মণ্ডপের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত ১৬ অক্টোবর বিকেলে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জে এম সেন হল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং আয়োজনের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন। সফরকে কেন্দ্র করে মণ্ডপের প্রস্তুতি, আশপাশের পরিবেশ ও দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা বেড়েছে।

এদিকে, জনসমাগমের সময় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। মণ্ডপের প্রবেশপথ, আশপাশের সড়ক এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের জায়গা ব্যবস্থাপনার আওতায় রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও সড়ক সংস্কারে নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে চসিক। পূজামণ্ডপের আশপাশে ময়লা-আবর্জনা জমতে না দেওয়া, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, মশক নিধন এবং সড়কের খানাখন্দ সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবরের এক বৈঠকে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এসব বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেন। পূজামণ্ডপের আশপাশে হকার ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের বসতে না দেওয়া এবং দর্শনার্থীদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মণ্ডপসংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বর্জ্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং চলাচলের পথ সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎসবের সময় জনদুর্ভোগ কমাতে এসব ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

২৯৪ পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা

দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনে নগরের পূজামণ্ডপগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে চসিক। গত ১৫ অক্টোবর নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৯৪টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে হরিজন সম্প্রদায়ের জন্যও অনুদান দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চসিকের এই সহায়তা পূজামণ্ডপগুলোর উৎসব আয়োজন পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। নগরের বিভিন্ন এলাকায় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সফরের প্রস্তুতি যেন স্থায়ী নাগরিক সেবায় রূপ নেয়

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তবে তাঁদের চাওয়া, এই তৎপরতা যেন শুধু সফর বা উৎসবকেন্দ্রিক না থাকে। নগরের সড়ক ও ফুটপাত চলাচলের উপযোগী রাখা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা সারা বছরের নাগরিক সেবার অংশ হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে জে এম সেন হল এলাকায় পূজার সময় দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যানজট কমানো, জরুরি যানবাহন চলাচলের পথ খোলা রাখা এবং পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে উৎসবের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সহজ হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নেওয়া প্রস্তুতি চট্টগ্রামের নাগরিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে। এখন এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং সফর শেষে নিয়মিত সেবার অংশ হিসেবে অব্যাহত থাকে কি না, তার ওপরই নির্ভর করবে নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণের অনেকটা।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status