ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ● ১১ কার্তিক ১৪৩৩
চার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করেও মায়ের ঠাঁই ভাড়া বাসায়, মিলল পচনধরা মরদেহ
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 27 October, 2026, 9:38 PM

চার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করেও মায়ের ঠাঁই ভাড়া বাসায়, মিলল পচনধরা মরদেহ

চার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করেও মায়ের ঠাঁই ভাড়া বাসায়, মিলল পচনধরা মরদেহ

বরিশালের বাবুগঞ্জে ভাড়া বাসা থেকে তাহমিনা বেগম (৬৫) নামে এক নারীর পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রবিবার দুপুরে উপজেলার নতুন হাট এলাকার একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, এক থেকে দুই দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানকে মানুষ করতে প্রায় ১০ বছর সৌদি আরবে কাজ করেন তাহমিনা। উপার্জিত অর্থ দিয়ে সন্তানদের লালন-পালন ও প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। তার বড় ছেলে সুমনের ঢাকার উত্তরায় ছয়তলা ভবন ও বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা রয়েছে। ছোট ছেলে আওলাদও ঢাকায় কাজ করেন। দুই মেয়ে হিরা ও মুক্তার বিয়ে হয়েছে।

তাহমিনা বেগম বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি নতুন হাট এলাকার ওই ভাড়া বাসায় একাই বসবাস করছিলেন। বাসার মালিক আব্দুর বারেক জানান, তাহমিনাকে তার বড় ভাই প্রায় তিন মাস আগে বাসাটি ভাড়া নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগতেন এবং মাঝেমধ্যে বাজারের দোকানগুলোতে ঘোরাফেরা করতেন। গত দুই দিন তাকে বাইরে দেখা যায়নি। শনিবার বিকাল থেকে বাসার আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়ালেও প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি তিনি। রবিবার সকালে দুর্গন্ধের উত্স খুঁজতে গিয়ে কক্ষ থেকে গন্ধ আসার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

পরে তাহমিনার বড় ভাইকে খবর দেওয়া হলে তিনি বাসায় এসে কক্ষের ভেতরে বোনের মরদেহ দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, গত তিন মাসে সন্তানদের কেউ তাকে দেখতে আসেননি। তবে এ বিষয়ে সন্তানদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, তাহমিনা আগে কয়েক বার স্ট্রোক করেছিলেন। হূদেরাগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। তার পা প্রায়ই ফুলে থাকত এবং ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়াও করতেন না। শনিবার রাতে তার ছেলের সঙ্গে মায়ের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বলে জানান স্থানীয় এক বাসিন্দা।

এদিকে, তাহমিনার ছেলে-মেয়েরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় পরিবারের সদস্যরা পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা দেন। তবে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চলছে।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status