ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
জেন–জি আন্দোলনের পর নেপালে প্রথম ভোটগ্রহণ, তীব্র লড়াইয়ে অলি–শাহ–থাপা
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 5 March, 2026, 11:31 AM

জেন–জি আন্দোলনের পর নেপালে প্রথম ভোটগ্রহণ, তীব্র লড়াইয়ে অলি–শাহ–থাপা

জেন–জি আন্দোলনের পর নেপালে প্রথম ভোটগ্রহণ, তীব্র লড়াইয়ে অলি–শাহ–থাপা

জেন–জি তরুণদের নেতৃত্বে আন্দোলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির সরকার পতনের ছয় মাস পর বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নেপালে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হিমালয়ঘেরা দেশটির ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদের জন্য এই ভোটকে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই নির্বাচনে মোট ৩ হাজার ৪০৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটটি অনেকটা পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর গণভোটের মতো। জেন–জি আন্দোলনের ফলে যে পরিবর্তনের দাবি উঠেছিল, তা রাজনীতিতে স্থায়ী রূপ পাবে কি না— সেটিও নির্ধারিত হবে এই নির্বাচনের মাধ্যমে।

গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর জেন–জি তরুণদের নেতৃত্বে দুই দিনের তীব্র বিক্ষোভের মুখে কেপি শর্মা অলির সরকার পতন ঘটে। ওই সহিংসতায় ৭৭ জন নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। এরপর প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল সংসদ ভেঙে দেন এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন। তিনি নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনে আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম সাবেক কাঠমান্ডু মেয়র বলেন্দ্র শাহ। র‌্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা ৩৫ বছর বয়সী এই নেতা 'ব্যালেন' নামে পরিচিত। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং প্রজন্মগত পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন তিনি। ঝাপা–৫ আসনে তিনি সরাসরি কেপি শর্মা অলির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চারবারের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি আবারও ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে ছয় মাস আগে আন্দোলনে তার সরকার পতনের কারণে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা গগন থাপা, যাকে সংস্কারপন্থী নেপালি কংগ্রেস সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সামনে এনেছে। দক্ষিণাঞ্চলে তার প্রচারণা জোরালো ছিল এবং তাকে নতুন ধারার নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল প্রচণ্ডও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। সাবেক মাওবাদী বিদ্রোহী নেতা হিসেবে তিনি ২০০৬ সালে মূলধারার রাজনীতিতে আসেন এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

এছাড়া ছোট কিন্তু উদীয়মান শক্তি হিসেবে রয়েছে উজ্যালো নেপাল পার্টি এবং শ্রম শক্তি পার্টি। যদিও তাদের প্রভাব এখনো আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমিত। একই সময় নেপালে রাজতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের আলোচনা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে।

দেশটির প্রায় এক কোটি ৮৯ লাখ ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। ভোট শেষে ব্যালট বাক্স সংগ্রহের পরপরই গণনা শুরু হওয়ার কথা।

এই নির্বাচনকে নেপালের শাসনব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সংকট এবং বৈদেশিক নীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও জবাবদিহির অভাব নিয়ে তরুণদের ক্ষোভ প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য ও যুব বেকারত্বের কারণে কর্মসংস্থান এখন বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

নতুন সরকারকে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং চীনের বিনিয়োগ— দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতেও সতর্ক থাকতে হবে। নেপালের মোট বাণিজ্যের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভারতের সঙ্গে, আর চীন অবকাঠামো খাতে বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে উপস্থিতি বাড়িয়েছে।

এবার ভোটার তালিকায় প্রায় ১০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই জেন–জি প্রজন্মের। তাদের দাবি দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা জোরদার করা, স্বজনপ্রীতির অবসান, নেতৃত্বে প্রজন্মগত পরিবর্তন এবং সুশাসন নিশ্চিত করা। বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের ক্লান্তি নতুন রাজনৈতিক শক্তির জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status