প্রমত্তা শীতলক্ষ্যা নদীর ভয়াল ভাঙনের কবলে পড়েছে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানা কমপ্লেক্স। নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও তীব্র স্রোতের আঘাতে থানার সীমানা প্রাচীরসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় ভবনের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর ডান তীরের প্রায় ১৫০ মিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিনের ভাঙনে একটি বড় বাঁক সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে জোয়ারের পানি ও প্রবল স্রোত সরাসরি থানা কমপ্লেক্সের তীরে আঘাত হানছে। এতে সীমানা প্রাচীরের নিচের মাটি সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতার বেতার টাওয়ার, পুলিশ জামে মসজিদ, সেমিপাকা আনসার ব্যারাক এবং অফিসার্স ব্যারাক। এছাড়া ওসির বাসভবন ও অন্যান্য আবাসিক ভবনের নিচের মাটিও দেবে যেতে শুরু করেছে, যা ভবন ধসের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এদিকে নদীভাঙনের ভয়াবহতায় থানা সংলগ্ন একটি মন্দিরের বিস্তীর্ণ এলাকা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কাপাসিয়া থানা কর্তৃপক্ষ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমদ বলেন, থানা কমপ্লেক্স রক্ষায় শীতলক্ষ্যা নদীর ডান তীরে জরুরি ভিত্তিতে একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে কয়েক কোটি টাকার সরকারি স্থাপনা ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি কাপাসিয়া উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তাই জনস্বার্থে অবিলম্বে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দায়িত্বশীলরা।