ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬ ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মা ও ছেলে দুজনই খেলেছেন ফুটবল বিশ্বকাপ, ইতিহাসে এটাই প্রথম
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 30 June, 2026, 11:20 AM

মা ও ছেলে দুজনই খেলেছেন ফুটবল বিশ্বকাপ, ইতিহাসে এটাই প্রথম

মা ও ছেলে দুজনই খেলেছেন ফুটবল বিশ্বকাপ, ইতিহাসে এটাই প্রথম

বিশ্বকাপ মানেই শুধু কোন দল কত গোল দিল, প্রিয় তারকা গোল করলেন কি না, বা শেষ পর্যন্ত কে চ্যাম্পিয়ন হলো—এসব গল্প নয়। এই মহারণের মঞ্চে জন্ম নেয় এমন কিছু মুহূর্ত, যা পরিসংখ্যানের গণ্ডি পেরিয়ে ঠাঁই করে নেয় ইতিহাসের পাতায়। এবারের বিশ্বকাপেও তেমনই এক অনন্য ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ডিফেন্ডার টাইলার বাইন্ডন ও তাঁর মা জেনি বাইন্ডন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে এর আগে কখনোই মা ও ছেলে দুজনকে খেলতে দেখা যায়নি। সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছেন বাইন্ডন মা ও ছেলে।

১৫ জুন ইরানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ২১ বছর বয়সী টাইলার বাইন্ডন। গ্যালারিতে বসে ছেলের সেই স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত দেখছিলেন তাঁর মা, নিউজিল্যান্ড নারী দলের সাবেক গোলরক্ষক জেনি বাইন্ডন।

আর এই সময়েই বিশ্ব ফুটবল এক ইতিহাসের সাক্ষী হলো, প্রথমবারের মতো একই পরিবারের মা ও ছেলে দুজনই বিশ্বকাপে খেলে কীর্তি গড়লেন। যদিও দুজনের খেলার বছর ভিন্ন।

বিশ্বকাপে বাবা ও ছেলের বিশ্বকাপ খেলার গল্প নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বকাপে খেলা বাবা-ছেলের গল্পও জানি আমরা। কিন্তু মা-ছেলের এমন নজির ছিল না। সেই অপূর্ণ ইতিহাসই এবার পূর্ণ করলেন জেনি ও তাঁর ছেলে টাইলার বাইন্ডন।

মায়ের পথ ধরেই ছেলের বিশ্বকাপ
জেনি বাইন্ডন নিউজিল্যান্ড ফুটবলের পরিচিত এক নাম। গোলরক্ষক হিসেবে ২০০৭ ও ২০১১ সালের নারী ফিফা বিশ্বকাপে খেলেছেন। মজার বিষয় হলো, এই দুই বিশ্বকাপেই তিনি অংশ নিয়েছিলেন মা হওয়ার পর। এ ছাড়া ২০০৮ ও ২০১২ সালের অলিম্পিক গেমসেও খেলেছেন তিনি।

২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে খেলেছেন ৭৭টি ম্যাচ। যে জার্সি গায়ে চাপিয়ে তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, সেই একই জার্সিতে ছেলেকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখাটা ছিল অসাধারণ।

মুহূর্তটি স্মরণ করে জেনি বলেন, সে আমার কাছে এসে শুধু আমার হাতটা ধরল এবং বলল, আমরা পেরেছি, মা। তখনই বিষয়টি সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করলাম। এটা সত্যিই অসাধারণ। মা ও ছেলে দুজনই বিশ্বকাপে খেলেছে। এমন ঘটনা তো সচরাচর ঘটে না।

ইতিহাসের সাক্ষী টাইলার
২০২৬ বিশ্বকাপই ছিল টাইলার বাইন্ডনের প্রথম বিশ্বকাপ। এর আগে ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ড পুরুষ জাতীয় দলের হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল।

ইতিহাস গড়ার পর নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিতে দেরি করেননি তিনি। নিজের ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে টাইলার লিখেছেন, অনেক কারণেই আজকের দিনটি বিশেষ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। আর বিশ্বকাপে খেলা প্রথম মা-ছেলের জুটি হিসেবে এই মুহূর্তটি আমার মায়ের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে দারুণ কৃতজ্ঞ।

বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের যাত্রা প্রত্যাশামতো দীর্ঘ হয়নি। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে। তবে টাইলার ও জেনি বাইন্ডন প্রমাণ করে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে সব গল্পই জয়-পরাজয়ের নয়। কখনো কখনো একটি মুহূর্তই পরিণত হয় ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর গল্পে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status