|
একই ছাদের নিচে দুই স্ত্রী, ভাগাভাগি করে চলছে সংসার
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() একই ছাদের নিচে দুই স্ত্রী, ভাগাভাগি করে চলছে সংসার কালিয়াকৈরের চন্দ্রা হরিনহাটি এলাকার আব্দুর রহমানের সংসারে এমনই সম্পর্কের গল্প গড়ে উঠেছে। তার দুই স্ত্রী রুমা আক্তার ও নাজনীন সুলতানা। দুজনই একই বাসায় বসবাস করছেন প্রায় চার বছর ধরে। আব্দুর রহমানের প্রথম স্ত্রী রুমা আক্তারের সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবনের শুরু প্রায় ১৭ বছর আগে। তাদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান। দীর্ঘ ১৩ বছর সংসার করার পর একসময় স্বামী আব্দুর রহমান তাকে জানান, নাজনীন সুলতানা নামে এক নারীর প্রতি তার ভালো লাগা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি শুনে বিরোধে না গিয়ে স্বামীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন রুমা। পরে উভয়ের সাথে চেনাজানা শেষে নিজের সম্মতিতেই নাজনীনকে সঙ্গে নিয়ে কাজি অফিসে যান তিনি। সেখানেই আব্দুর রহমান ও নাজনীনের বিয়ে সম্পন্ন করান স্ত্রী নিজেই। বিয়ের পর নাজনীন আলাদা সংসার শুরু না করে রুমার সংসারেই বসবাস শুরু করেন। ধীরে ধীরে একই ঘরের দুই নারী নিজেদের মধ্যে তৈরি করেন বোঝাপড়ার সম্পর্ক। রুমা আক্তার বলেন, “আমার স্বামী একদিন আমাকে জানান, নাজনীনকে তার ভালো লাগে। পরে তার পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে আমি নিজেই তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করি। এখন আমরা তিনজন সুখেই আছি। এক হাঁড়িতে রান্না করি, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করি। সুযোগ পেলে তিনজন মিলে বেড়াতেও যাই।” বর্তমানে দুই স্ত্রীই সংসারের কাজ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। কখনো রুমা রান্নার দায়িত্ব নেন, নাজনীন অন্য কাজ করেন। আবার কখনো বদলে যায় দায়িত্ব। বিয়ের পর নাজনীনের কোল জুড়েও আসে এক কন্যা সন্তান। তবে একই স্বামীর দুই স্ত্রী একসঙ্গে চলাফেরা করায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলও কম নয়। বাইরে বের হলে নানা মন্তব্য ও কখনো কটূক্তির মুখেও পড়তে হয় তাদের। কিন্তু এসব বিষয়কে নিজেদের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে দেন না রুমা ও নাজনীন। আব্দুর রহমানের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার ঝরা বর্ষা গ্রামে। জীবিকার সন্ধানে ২০০৬ সালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পারি জমান তিনি। দুই স্ত্রীর তিন সন্তানের জনক আব্দুর রহমান বর্তমানে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা হরিনহাটি এলাকায় ভাড়া বাসায় বৃদ্ধা মায়ের সাথে দুই স্ত্রী কে নিয়ে বসবাস করছেন। আব্দুর রহমান বলেন, “দুই স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে বের হলে অনেকেই নানা ধরনের মন্তব্য করেন। আমি তাদের বলি, অন্যের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রাখার চেয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা উত্তম। আমি আমার দুই স্ত্রীকে সমানভাবে দেখার চেষ্টা করি। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সামর্থ্য অনুযায়ী দুজনকেই দেওয়ার চেষ্টা করি।” তার দাবি, ধর্মীয় ও আইনি দিক বিবেচনায় বৈধ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় বিয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের সম্মতির মাধ্যমে সংসার পরিচালনায় তিনি কোনো সমস্যা দেখেন না। অন্যদিকে রুমা ও নাজনীনের ভাষ্য, তাদের সংসার নিয়ে বাইরে যত আলোচনা-সমালোচনা বা কৌতূহলই থাকুক, নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ও পারস্পরিক সম্মানই তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। একই ছাদের নিচে দুই সতীন হলেও তারা দাবি করছেন—সংসারে দ্বন্দ্বের চেয়ে শান্তি ও সহযোগিতাকেই তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
