ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ● ৪ অক্টোবর ২০২৬ ● ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
তিন মাসের বাড়তি বেতন একসঙ্গে পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 4 October, 2026, 10:21 AM

তিন মাসের বাড়তি বেতন একসঙ্গে পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

তিন মাসের বাড়তি বেতন একসঙ্গে পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

নতুন পে স্কেল কার্যকরের পর সরকারি চাকরিজীবীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহ এখন বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ নিয়ে। নতুন কাঠামোতে বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম বা পে-ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর প্রায় তিন মাসের এরিয়ার (বকেয়া) একসঙ্গে দেওয়া হবে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অবশ্য সবার বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, মূল বেতন, নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং কার্যকর তারিখ অনুযায়ী বকেয়া হিসাব করা হবে। এক্ষেত্রে কোনো চাকরিজীবীর তথ্য অনলাইনে দিতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশন বা নতুন বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে। চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ পোর্টালে প্রবেশ করে চাকরিজীবীদের প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর নতুন স্কেলে বেতন ও বকেয়া অর্থ পরিশোধের হিসাব চূড়ান্ত করবে সরকার।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নতুন পে-স্কেলের বাড়তি বেতন হাতে পাওয়ার আগে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সঠিকভাবে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা। কোনো তথ্য ভুল, অসম্পূর্ণ বা পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে অসংগত হলে প্রক্রিয়াটি আটকে যেতে পারে। এ কারণে ইতোমধ্যে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বিভাগওয়ারিভাবে ৫ থেকে ২০ অক্টোবর পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। শিগগিরই সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেবে অর্থ বিভাগ।

এদিকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের জারি করা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর আলোকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান ধাপ হচ্ছে এই পে-ফিক্সেশন। পুরো প্রক্রিয়াটি আইবাস প্লাস প্লাস-এর পে-ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের নির্ধারিত সময়ে আইবাস প্লাস প্লাস-এ প্রবেশ করে নিজেদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে হবে। এর মধ্যে থাকবে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বর্তমান মূল বেতন, আগের পে-ফিক্সেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পদোন্নতি, বদলি, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্য। 


প্রয়োজন অনুযায়ী এসব তথ্যের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও অন্যান্য নথিও প্রস্তুত রাখতে হবে। তথ্য দেওয়ার আগে নাম, এনআইডি, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড এবং বেতনসংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। পে-ফিক্সেশনের ভিত্তিতেই নতুন স্কেলে একজন কর্মচারীর মূল বেতন নির্ধারিত হবে। পরে সেই হিসাবের ওপর ভিত্তি করেই বেতন বিল ও বকেয়া পাওনার হিসাব তৈরি হবে।

পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে সরকারি চাকরিজীবী আইবাস প্লাস প্লাস-এ পে-ফিক্সেশন পোর্টালে প্রবেশ করবেন। পরিচয় যাচাইয়ের পর চাকরিসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। এরপর আগের বেতন ও চাকরির ইতিহাসের সঙ্গে মিল রেখে নতুন বেতন কাঠামোয় প্রযোজ্য গ্রেড ও ধাপ নির্ধারণ করা হবে। পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, টাইমস্কেল বা সিলেকশন গ্রেডের মতো বিষয় থাকলে সেগুলোর তথ্যও দিতে হবে। সব তথ্য দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই করবে। তথ্য ও নথিপত্রে কোনো অসংগতি থাকলে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পে-ফিক্সেশন চূড়ান্ত করবেন।

নতুন পে-স্কেল কার্যকরের পর সরকারি চাকরিজীবীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহ এখন বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পে-ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর হিসাব অনুযায়ী প্রায় তিন মাসের এরিয়ার (বকেয়া) একসঙ্গে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে প্রত্যেকের বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, মূল বেতন, নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং কার্যকর তারিখ অনুযায়ী বকেয়া হিসাব করা হবে। কোনো চাকরিজীবীর তথ্য অনলাইনে দিতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

পে-ফিক্সেশন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অর্থ বিভাগের এসপিএফএমএস কর্মসূচির আওতায় আইবাস প্লাস প্লাস স্কিমের উদ্যোগে বিশেষ অনলাইন প্রশিক্ষণ চলছে। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের আওতাধীন প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (সিএএফও), বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ), জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (ডিএএফও) এবং উপজেলা হিসাব কর্মকর্তা (ইউএও) কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুম প্ল্যাটফর্মে এতে অংশ নিচ্ছেন। 

এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে কর্মচারীর তথ্য ও সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ সঠিক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের যাচাইয়ের মাধ্যমে পে-ফিক্সেশন দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। 

তিনি বলেন, অক্টোবর থেকে নতুন স্কেলে বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এ কারণে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে।

সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ধরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮ দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বেতন–ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর প্রথম ধাপ, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপ এবং ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় ধাপে দেওয়া হবে মূল বেতন। আর ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status