|
মোটরসাইকেলের হেলমেট মাথায় তুলে ক্রিকেট বদলে দিয়েছিলেন যে কিংবদন্তি
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() মোটরসাইকেলের হেলমেট মাথায় তুলে ক্রিকেট বদলে দিয়েছিলেন যে কিংবদন্তি ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটে ভারী মোটরসাইকেল হেলমেট ও পলিকার্বনেটের ভাইজর পরে ব্যাট করে ক্রিকেটের চেহারাই বদলে দিয়েছিলেন অ্যামিস। তিনিই প্রথম ব্যাটার, যিনি ক্রিকেট মাঠে হেলমেট ব্যবহার করেন। সেই ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটে খেলেছিলেন সে সময়ের বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার ডেনিস লিলি, জেফ থম্পসন, মাইকেল হোল্ডিং, অ্যান্ডি রবার্টস, জোয়েল গার্নার, কলিন ক্রফট ও ইমরান খানরা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘মানুষ বলবে, আপনিই প্রথম হেলমেট নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। আমি যখন ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটে গেলাম, সেখানে ১৯ জন ফাস্ট বোলার ছিল, যারা ঘণ্টায় ৯০ মাইল (প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার) গতিতে বল করতে পারতো। এর দুই বছর আগে লিলি ও থম্পসনের মুখোমুখি হয়েছিলাম। তারা আমাদের কী ধরনের সমস্যায় ফেলেছিল, সেটা জানা ছিল। তাই আমি ভাবলাম, মাথা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ তার ধারণা ছিল এসব গতিময় বোলারের বল আঘাত হানলে ভয়ানক কিছু হতে পারে। সেই স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ‘মাথায় আঘাত লাগলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। আমরা ফিলিপ হিউজের ঘটনায় সেটা দেখেছি। মাথার ওই শিরায় বল লাগার পর মাঠেই তার মৃত্যু হয়েছিল। সেটা ছিল ভয়াবহ এক ঘটনা। তাই আমার মনে হয়েছিল, হেলমেট সাহায্য করতে পারে। সেজন্য ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটে আমি পলিকার্বনেট ভাইজরসহ একটি মোটরসাইকেলের হেলমেট নিয়ে গিয়েছিলাম।’ ৫০টি টেস্ট খেলা অ্যামিস ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি করা ব্যাটারও। তবে শুরুতে তার হেলমেট ব্যবহার নিয়ে সতীর্থ ও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে কম কটাক্ষ শুনতে হয়নি। সেই গল্প করতে গিয়ে বলেন, ‘অনেক কথা শুনতে হয়েছে আমাকে। “এই অ্যামোস, তোমার মোটরসাইকেল কোথায়?”- এমন কথাও বলতো। কিন্তু এক ম্যাচে ডেভিড হুকসের চোয়াল ভেঙে গেলো। ছয় সপ্তাহ তাকে স্ট্র দিয়ে তরল খাবার খেতে হয়েছিল। এরপর সে আমাকে বললো, “আমি কি তোমার হেলমেটটা ধার নিতে পারি? আমাকে অ্যান্ডি রবার্টসের বিপক্ষে খেলতে হবে।” সে হেলমেটটা নিয়েছিল।’ এরপর যা ঘটেছিল, সেটিই হয়ে যায় ক্রিকেট ইতিহাসের স্মরণীয় এক মুহূর্ত। অ্যামিসের ভাষায়, ‘সে যে প্রথম বলটি খেলেছিল, সেটি সরাসরি তার মাথার দিকে উঠে এসেছিল। সে সেটি হুক করে ছক্কা মেরেছিল। সেটি ছিল দারুণ এক মুহূর্ত। আমি ঘটনাটি দেখছিলাম, আর রিচি বেনো বলেছিলেন, এটাই ক্রিকেটের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেওয়া মুহূর্ত।’ ৮২ বছর বয়সী অ্যামিস সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘এই ছেলেটি ছয় সপ্তাহ ধরে চোয়াল ভাঙার কারণে স্ট্র দিয়ে খাবার খেয়েছে। সেই একই বোলার, একই মাঠ, দ্রুতগতির উইকেট। আর সে বলটি হুক করে মাঠের বাইরে ছক্কা মেরেছে।’ |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
