ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬ ● ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
শিক্ষকসংকটের মধ্যেই ১১ শিক্ষক বদলি, শূন্য একটি বিদ্যালয়
মোঃ মাহবুবুল হাসান,চিলমারী
প্রকাশ: Wednesday, 7 October, 2026, 4:41 PM

শিক্ষকসংকটের মধ্যেই ১১ শিক্ষক বদলি, শূন্য একটি বিদ্যালয়

শিক্ষকসংকটের মধ্যেই ১১ শিক্ষক বদলি, শূন্য একটি বিদ্যালয়

সহকারী শিক্ষকদের আন্তঃউপজেলা বদলিতে বদলি নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। চিলমারী উপজেলার ১১ জন সহকারী শিক্ষকের বদলি আদেশের মধ্যে অন্তত আটজনের বদলির ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এতে কোনো কোনো বিদ্যালয় শিক্ষকশূন্য হয়েছে, আবার কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকসংখ্যা আরও কমে গেছে।

জানা গেছে, চিলমারী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ জন সহকারী শিক্ষক আন্তঃউপজেলা বদলির জন্য আবেদন করেন। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলি কমিটি আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে ১১ জনের বদলি আদেশ দেয়।

প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্তঃউপজেলা বদলি নীতিমালায় পাঁচজন বা তার কম শিক্ষক কর্মরত থাকা বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক বদলি না করার বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ, চিলমারীতে সম্প্রতি দেওয়া বদলি আদেশে ১১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে আটজনের ক্ষেত্রেই এ বিধান মানা হয়নি।

বদলি তালিকার ৫ নম্বর ক্রমিকে থাকা মো. নূর আলমকে গৌড়মোহনহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাজারভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। চারটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বিদ্যালয়টিতে কর্মরত ছিলেন মাত্র একজন শিক্ষক। তাঁকেও বদলি করায় বিদ্যালয়টি বর্তমানে শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা মো. বাবলু মিয়াকে নটারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাণীগঞ্জ মদনমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। আটটি অনুমোদিত পদের বিদ্যালয়টিতে কর্মরত ছিলেন চারজন শিক্ষক। একজনকে বদলি করায় ২৩২ শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছেন তিনজন।

১০ নম্বর ক্রমিকে থাকা মো. জোনাব আলীকে খোদ্দ বাঁশপাতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চর পাত্রখাতা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তিনি খোদ্দ বাঁশপাতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, চর পাত্রখাতা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে দুইজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৫২ শিক্ষার্থী ও ছয়টি অনুমোদিত পদের মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন মাত্র দুইজন শিক্ষক। বদলি তালিকার ১১ নম্বর ক্রমিকে থাকা মোছা. মাসুমা আক্তারকে ওই বিদ্যালয় থেকে মুদাফৎখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ফলে মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদানে একজন শিক্ষক থাকছেন বলে অভিযোগ।

এ ছাড়া ৮ নম্বর ক্রমিকে থাকা মো. মনোয়ারুল ইসলামকে ছালীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ডাঙ্গার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ছালীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫১ শিক্ষার্থীর বিপরীতে চারজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে একজনকে বদলি করায় শিক্ষকসংখ্যা আরও কমেছে।

৯ নম্বর ক্রমিকে থাকা মো. মোবারক হোসেনকে উত্তর খাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মগড়াকুড়া আকন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ছয়টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বিদ্যালয়টিতে তিনজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কবন্ধী পটিয়াই প্রশিক্ষণে থাকায় বর্তমানে দুইজন শিক্ষক দিয়ে ৯০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। এর মধ্যে একজনকে বদলি করায় বিদ্যালয়টির শিক্ষকসংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া ৪ নম্বর ক্রমিকে থাকা মোছা. তামান্না ইসলাম তৃষাকে নাওশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ফকিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। সেখানে তিনজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে তাঁকে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২ নম্বর ক্রমিকে থাকা মোছা. মহসিনা খাতুনকেও ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সোনারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও বদলি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

চর মুদাফৎকালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়ারা খাতুন বলেন, বদলি প্রক্রিয়ায় নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। শিক্ষক নেতাদের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বদলি করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এর ফলে যেসব বিদ্যালয়ে আগে থেকেই শিক্ষকসংকট ছিল, সেসব বিদ্যালয়ের সংকট আরও বেড়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান আর্থিক বলেন, কে কোথায় আর্থিক লেনদেন করেছে, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। প্রতিষ্ঠান শূন্য রেখে একমাত্র শিক্ষককে বদলির প্রসঙ্গে তিনি জানান, নতুন শিক্ষক যোগদান না করা পর্যন্ত ওই শিক্ষক সেখানেই থাকবেন। শিক্ষক বদলিতে জ্যেষ্ঠতার নিয়ম ভঙ্গের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমার এখানে কোনো দায় নেই। বদলি কমিটিতে দুজন জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন।’ লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ হলে আমি ব্যবস্থা নেব।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান শূন্য রেখে বদলির কোনো নিয়ম নেই।’

প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘সবকিছু নিয়ম মেনেই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।’

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status